Uncategorized

‘সাংবাদিক’ নাম ভাঙিয়ে তুহিনের অপকর্ম চরমে, বিব্রত পেশাদার সাংবাদিকরা

ফেনী প্রতিনিধি : “এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় সাংবাদিক কার্ড কিনে ফেনী জেলা চষে বেড়াচ্ছে অনেক ভুয়া সাংবাদিক। অসাধুচক্রের কাছ থেকে অখ্যাত পত্রিকার কার্ড নিয়ে যথেচ্ছাচার করে বেড়াচ্ছে এসব ব্যক্তি। তারা সাংবাদিক সেজে মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ ও ‘সাংবাদিক’ লিখে বোকা বানাচ্ছে বিভিন্ন মহলকে। অনেকে রীতিমতো মাদক বহনের কাজও করছে।’
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মি পরিচয় দিয়ে সোনাগাজীর অলিগলিতে নিয়মিত প্রতারণা ও চেচরামি করে গণ-মানুষকে উত্যক্ত করে যাচ্ছে আবু মুসা তুহিন নামে এক মোবাইল মেকানিক। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে প্রতারক তুহিনের এমন কর্মকান্ডে বিব্রত হচ্ছে সোনাগাজীর পেশাদার সাংবাদিকেরা।
প্রতারক তুহিনের বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, ‘স্টাপ রিপোর্টার’ নামে একটি ফেইক আইডি খুলে সাংবাদিকদের নিয়ে অহেতুক বিষোদাগার করে এবং বিভিন্ন লোক কে জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে চাঁদাবাজি করে।
তুহিন ছাড়াইতকান্দি হোসাইনিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০০২সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় ৬বিষয়ে ফেইল করে ৭ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায় পড়ালেখা। ২০০৪ সালের দিকে ছাগল চুরি সংক্রান্ত এক গ্রাম্য শালিশে দোষী সাব্যস্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। পরে ২০০৬ সালে আবার সোনাগাজী এসে একটি দোকানে মোবাইল মেকানিকের কাজ শিখে এবং ২০০৮ সালে হাসপাতালের সামনে একটি দোকান দিয়ে মোবাইল মেকানিক হিসাবে কাজ করতে থাকে।
২০১৮ সালে হঠাৎ নিজেকে একটি মানবাধিকার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মি দাবী করে বেশভূষা পরিবর্তন করে প্রতারণায় নামে। মানবিক সেবা দেয়ার নামে অসহায় মানুষজনের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে থাকে। সোনাগাজীর আনাছে-কানাছে পান দোকানী থেকে শুরু করে চুন দোকানদার, চা দোকানদার, মুদি দোকানদার সহ নি¤œমানের অশিক্ষিত-কুশিক্ষিত ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ভুয়া আইডি কার্ড দিয়ে ব্যাপক প্রতারণা করে আসছে দীর্ঘদিন। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে টাকা দিয়ে একটি অখ্যাত পত্রিকার কার্ড বানিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে থাকে প্রতারক তুহিন। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পেশাদার সাংবাদিকদের নামে অহরহ বিষোদাগার করে যাচ্ছে এই প্রতারক।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা গুলোতে নিয়োগ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অনেককে দিচ্ছে মিথ্যে আশ্বাস। হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গরীব, অসহায়, ও অশিক্ষিত গৃহকর্মীদের লাভবান করে তোলার কথা বলে বিভিন্ন প্ররোচনা দিয়ে নিঃস¦ করে তুলছে। আবার অনেকেই তার ফাঁদে পড়ে হারাতে বসেছে পরিবার পরিজন।
স্টাফ রিপোর্টার নামে একটি ফেক আইডি খুলে পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে খারাপ মন্তব্যের পাহাড় গড়ে তুলেছে। সেই আইডেিত বিভিন্ন সময় সংবাদ ও সাংবাদিকদের নামে কুরুচি সম্পন্ন মন্তব্য লিখে মানহানী করার চেষ্টা সহ কার্ড বিক্রির ঘোষনা দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে আসছে অনেকবার। নিজে একটি প্রেসক্লাব গঠন করে এবং তার দেওয়া ভুয়া কার্ডধারীদের সদস্য করার কথা বলেও বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। তার এমন মনগড়া স্ট্যাটাসে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে যা পেশাদার সাংবাদিক ও প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সহ সকলে বিভ্রান্তের শিকার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button