মানিকগঞ্জে পর্যবেক্ষণ করছেন অনেকেই

সিরাজুস সালেকিন : মানিকগঞ্জে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিতে রেজিস্ট্রেশন করেও টিকা নিতে আসেননি অনেকে। ভ্যাকসিন বিতরণের প্রথম দিনে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজ জেলায় ৬২৬ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। দিনভর ভ্যাকসিন গ্রহীতার অপেক্ষায় বসে অলস সময় কাটিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। মানিকগঞ্জে মোট ১৯০০ জন ভ্যাকসিনের জন্য অনলাইনে আবেদন করলেও মাত্র এক তৃতীয়াংশ আবেদনকারী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। ভ্যাকসিন গ্রহীতার উপস্থিতি হতাশাজনক হওয়ার পেছনের কারণ জানতে চাইলে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, মানুষের মধ্যে এখনও ভ্যাকসিন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়ে গেছে। অনেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিচিতজনদের কাছে ভ্যাকসিন গ্রহণের অভিজ্ঞতা শুনছেন। খুব দ্রুতই মানুষের মনের মধ্যে থেকে আশঙ্কা দূরীভূত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডা. আখন্দ।
তিনি জানান, গতকাল যারা আসেননি পরবর্তীতে তাদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। ভ্যাকসিন বিতরণ কেন্দ্রে এলেই তারা ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১৯০০ জন ভ্যাকসিনের জন্য অনলাইন নিবন্ধন করেছিলেন। এরমাঝে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬২৬ জন। মানিকগঞ্জ জেলায় মোট ৯টি ভ্যাকসিন বিতরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরমধ্যে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মানিকগঞ্জ কেন্দ্রে ২৬৮ জন, পুলিশ হাসপাতালে ৮৯ জন, কর্র্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ৩০ জন, হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ১৯ জন, সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ৪৭ জন, ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪ জন এবং শিবালয়
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৩ জন উপস্থিত ছিলেন।
কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন উপস্থিতির কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, সুরক্ষা ওয়েবসাইটের ত্রুটির কারণে ওই হাসপাতালে আবেদনকারীরা আবেদন করতে পারেননি। পরবর্তীতে ত্রুটি সংশোধন করা হলে সেখানে ১০ জন আবেদন করেছেন। হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে বেলা ২টায় সরজমিনে দেখা গেছে, ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য বসে অলস সময় পার করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেখানে দুপুর পর্যন্ত ১৭ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। এই সংখ্যা দিনশেষে ১৯ এ পৌঁছে। ওই কেন্দ্রে মোট ১৭৯ জন ভ্যাকসিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেখানে প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান। উপস্থিতি কম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় সেখানকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা কম। ভ্যাকসিন সম্পর্কে হয়তো নেতিবাচক ধারণা আছে তাদের মধ্যে। অনেককে ইউনিয়ন অফিস থেকে নিবন্ধন করিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এসএমএস হয়তো পড়ে দেখেননি। ওই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সুশান্ত কুমার হাওলাদার (৪০) ভ্যাকসিন গ্রহণের অনুভূতি সম্পর্কে বলেন, ভ্যাকসিন গ্রহণের আগে যে ভয় ছিল তা কেটে গেছে। একই কেন্দ্রে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সত্তরোর্র্ধ্ব আওলাদ হোসেন হারুন। ভ্যাকসিন গ্রহণের পর কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব করেননি বলে জানান তিনি। এদিকে রোববার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভ্যাকসিন বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর এক সারিতে বসে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম ও সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ। নার্সিং কলেজ মিলনায়তন কেন্দ্রে তারা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
ভ্যাকসিন গ্রহণের অনুভূতি জানিয়ে জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, প্রথমে টিকা নেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। প্রায় ১৫ মিনিট পার হয়েছে টিকা নিয়েছি। আলাদা কোনো অনুভূতি হচ্ছে না। সাধারণ ইনজেকশনের মতোই মনে হচ্ছে। সুস্থ থাকতে হলে সকলের টিকা নেয়া জরুরি। গত একবছর ধরে মানিকগঞ্জবাসী করোনার লড়াইয়ে পাশে ছিল। টিকা গ্রহণের মাধ্যমে তারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি।
পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, মার্চ মাস থেকে আমরা করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছি। টিকা এসেছে মানুষের মঙ্গলের জন্য। সাধারণ ইনজেকশনের মতোই এ টিকা। আমরা প্রশাসনের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা টিকা নেয়ার পর সাধারণ মানুষের শঙ্কা থাকা উচিত না। টিকা নিয়ে অপপ্রচার রোধে করোনা মোকাবিলা কমিটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে বলে জানান তিনি। নার্সিং কলেজ কেন্দ্রে টিকা গ্রহণ করতে আসেন মানিকগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আঞ্জুম আহমেদ খান। তিনি জানান, নিজে করোনা আক্রান্ত না হলেও তার পুত্র ও পুত্রবধূ করোনা আক্রান্ত হয়েছিল। তাই সতর্কতা হিসেবে তিনি ভ্যাকসিন নিচ্ছেন। প্রথমদিকে ভয় কাজ করলেও কেন্দ্রে আসার পর তার ভয় কেটে গেছে। তবে তার সঙ্গে আসা স্ত্রীর রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের উচিত পরিবারভিত্তিক ভ্যাকসিন বিতরণ করা। এতে করে সবাই নিরাপদ থাকতে পারবে। ওই কেন্দ্রে সকালে পুরুষ বুথে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সেই তুলনায় নারীদের বুথগুলো ছিল ফাঁকা। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর ফরম প্রিন্ট করে আনতে হচ্ছে বলে জানান ভ্যাকসিন গ্রহীতারা। তাদের অনেকেই বিষয়টি অবগত না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়েন। আবার অনেকে গতকাল রাতে এসএমএস পেয়েছেন। তারা তড়িঘড়ি করে মানিকগঞ্জের বাইরে থেকে এসেছেন। ভ্যাকসিন প্রদানের আগে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা না হওয়ায় অনেকে ঝুঁকিবোধ করছেন। মানবজমিন




