খেলা

চলে গেলেন ফুটবলার বাদল রায়

জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার বাদল রায় আর নেই। লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত এই ফুটবলার রবিবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।
দীর্ঘ দিন ধরেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বাদল রায়।
২০১৭ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের।
তখন বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও আগের মতো আর স্বাভাবিক হতে পারেননি। তবে ক্রীড়াঙ্গনে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া বাদল রায় অসুস্থ অবস্থাতেই খেলাধুলার সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছিলেন নিজেকে।
গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়েছিলেন বাদল রায়। কাজী সালাউদ্দিনের কাছে অবশ্য হেরে যান তিনি।
তবে বাফুফের বর্তমান কমিটির আগে টানা তিনবার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন বাদল রায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্তও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) সহ-সভাপতি ছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি।
করোনাকালে কভিড-১৯ পজিটিভ হন বাদল রায়। পরে সুস্থও হয়ে ওঠেন।
তবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ৫ নভেম্বর আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া এই ফুটবলারকে।
বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। সেটিও চতুর্থ স্টেজে। তখনই চিকিৎসকেরা আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন।
স্কয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছিল। বলা হয় বাড়ি নিয়ে যেতে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও পরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন বাংলাদেশ মেডিকেলেই তার মৃত্যু হয়েছে।
১৯৬০ সালের ৪ জুলাই জন্ম বাদল রায়ের। ১৯৮১ থেকে ৮৬ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। ছিলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ক্লাব ফুটবলে বলতে গেলে মোহামেডানের ঘরের ছেলে ছিলেন তিনি। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত খেলেন সাদা-কালে শিবিরে। দলটির হয়ে জেতেন পাঁচটি লিগ শিরোপা। মোহামেডানের অধিনায়কত্বও করেছেন তিনি।
বাদল রায়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button