sliderরাজনীতিশিরোনাম

৩ লাখ চাকরিপ্রার্থীর ক্ষতির দায় সরকারকে নিতে হবে-এবি পার্টি

পতাকা ডেস্ক: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর স্বপ্ন, শ্রম, সময় ও অর্থের ক্ষতির দায় সরকার এড়াতে পারে না।

নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার তরুণ ধারদেনা করে, টিউশনির টাকা জমিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার আশায়। পরীক্ষার আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের পর পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে তা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের ভবিষ্যতের প্রতি চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ।

এবি পার্টির নেতারা বলেন, ২০০টির কিছু বেশি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ প্রার্থীর অংশগ্রহণ দেশের কর্মসংস্থান সংকটের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। প্রশ্নপত্রে সেট বা গ্রুপভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। তবে তদন্তের আগেই কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত না করে প্রশ্নফাঁসের উৎস, নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য যোগসাজশের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে নিরপেক্ষভাবে শনাক্ত করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা, আমলা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, পরীক্ষা বাতিলের কারণে চাকরিপ্রার্থীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খাতে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায় কে নেবে? পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনেও জনগণের করের টাকা ব্যয় হবে। তাই শুধু পরীক্ষা বাতিল করেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা কিংবা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে,মন্ত্রীর দায়িত্বে অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাঁর পদত্যাগসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, চাকরি কোনো দয়া নয়,মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নাগরিকের ন্যায্য অধিকার। বেকার তরুণদের স্বপ্নকে পুঁজি করে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট ব্যবসা চালাবে, আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে,এটি মেনে নেওয়া যায় না।

তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট নির্মূল, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার প্রতি তরুণদের আস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button