sliderউপমহাদেশশিরোনাম

ভারতে জেন-জির তিন আইকন

পতাকা ডেস্ক: ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে রাস্তায় নেমেছে দেশটির জেন-জিরা। এ আন্দোলনের নেতৃত্বে আছেন ব্যঙ্গাত্মক দল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও ছাত্র নেত্রী নেহা বোরা। আর তরুণদের ইউটিউব কনটেন্টে উদ্বুদ্ধ করেছেন জার্মান প্রবাসী ধ্রুব রাঠি। এ তিন তারকা সম্পর্কে জানা যাক-

অভিজিৎ দীপকে

ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তখন অভিজিৎ দীপকে নামক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক তরুণ ইনস্টাগ্রামে লিখেন, তাহলে সব তেলাপোকা এক হয়ে গেলে কেমন হয়? আর এভাবেই জন্ম হয় কোকরোচ জনতা পার্টি, যা কার্যত মোদি সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। ৩০ বছরের দীপকে মাত্র তিন মাসের কম সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার তারকাখ্যাতি অনেক অভিনেতা ও ক্রিকেটারের ভাগ্যকেও ছাড়িয়ে গেছে।

অভিজিতের জন্ম ভারতের মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদে ১৯৯৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরে। তার বাবা ভগবানরাও দীপকে একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী। মা অনিতা দীপকে গৃহিণী। ভারতে পড়াশোনা শেষ করে দীপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি কলেজ অব কমিউনিকেশনে অধ্যায়নে যান।

সেখান থেকেই জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জিন-জি আন্দোলনে জড়ানো প্রসঙ্গে বিবিসিকে দীপকে বলেন, ‘পুরো সময়টা ছিল এক রোলার-কোস্টার যাত্রার মতো। দু-তিন মাস আগেও কেউ আমাকে চিনত না। বোস্টনে ঘরে বসে কেবল তথ্যচিত্র দেখতাম বা বিভিন্ন লেকচারে অংশ নিতাম।’

নেহা বোরা

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে দেশটির ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীরা যখন এ সপ্তাহান্তে দিল্লিতে ফিরছেন, তখন সামনের সারিতে থাকা অন্যতম পরিচিত মুখ হবেন ২৯ বছর বয়সি এক পিএইচডি শিক্ষার্থী। নেহা বোরা একজন নাট্যকর্মী ও আন্দোলনকারী।

এক দশক ধরে বামপন্থি ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সঙ্গে যুক্ত। দুবছর ধরে সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নেহার জন্ম ভারতের উত্তরখন্ডের খাতিমায়। তার বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন। তার পরিবার বিজেপি সমর্থক হলেও তিনি ভারতে বিজেপিবিরোধী অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। বাবার চাকরির সুবাধে তিনি ভারতজুড়ে ঘুরে বেড়ান।

পশ্চিমবঙ্গেও দীর্ঘদিন থেকেছেন নেহা। সেখানেই বামপন্থি রাজনীতির হাতেখড়ি হয় তার। লেখাপড়ার পাশাপাশি মঞ্চনাটক করতেন। নেহা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এ ও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেছেন এম এ। বর্তমানে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী তিনি।

নেহা ভারতে সাম্প্রতিক আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য মুখ। গত কয়েকদিনে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, নারী পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে, তিনি পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর চড়ছেন, মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করা হচ্ছে।

ধ্রুব রাঠি

ভারতে মোদি সরকারের দুর্নীতি ও বিভাজনের রাজনীতির মুখোশ খুলে দেওয়া ইউটিউবারের নাম ধ্রুব রাঠি। কার্যত তিনি দেশটির তরুণদের চোখ খুলে দিয়েছেন। ইউটিউবে নানা বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করলেও রাজনৈতিক বিষয়গুলো কার্যত ঝড় তুলে; কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা কয়েক লাখ দর্শক দেখে ফেলেন।

ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা চার কোটির বেশি। তার ভিডিও বিশ্বব্যাপী দেখা হয়েছে ৮০০ কোটি বার। ধ্রুবের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ। ১৯৯৪ সালের ৮ অক্টোবর হরিয়ানা রাজ্যে জন্ম তার। জাট জাতিভুক্ত রাঠি হিন্দুধর্মালম্বী। স্বস্ত্রীক থাকেন জার্মানিতে। তার স্ত্রী জার্মান নাগরিক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button