sliderস্থানিয়

বোয়ালমারীতে এক পরিবারের ৬ সদস্যই অন্ধ জীবন কাটছে সাহায্যে, পাকা ঘর বানিয়ে দিলেন ইপি চেয়ারম্যান

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামে একই পরিবারের ৬ সদস্যই অন্ধ। তাদের জীবন কাটছে অন্যের সাহায্য সহযোগিতায়। তাদের কোন ঘর না থাকায় ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. কামাল আহমেদ তার নিজস্ব অর্থায়নে ভিতরে ফ্লোরসহ ডোয়া পাকা উপরে টিন দিয়ে একটি থাকার ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। ঘরের কাজটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সরজমিন গেলে ওই বাড়ীর অন্ধ রমেচা বেগম (৬৫) বলেন, তাদের নিজস্ব কোন জমি নেই। যে বাড়িতে বসবাস করে ওই বাড়ি সাড়ে ৪ শতক জমি। ওই জমি তার স্বামীর ভাইয়ের জমি। তারা কেউ পৃথিবীতে বেঁচে না থাকায় ওই জমিতে তারা বসবাস করে। তার স্বামী ও অন্ধ ছিল গত ৯ মাস আগে মারা যায়।
তার তিন ছেলে দুই মেয়ে সকলেই অন্ধ ছোট ছেলে লিটন (৩০) দৃষ্টি অন্ধর সাথে সাথে মানসিক ভারসাম্যহীন।

বড় ছেলে অন্ধ খলিল শেখ স্ত্রীর সাথে ঢাকায় থাকে।

তার মেয়ে ফরিদা (৩৮) বিয়ে হয়েছে একই উপজেলার পাশের পরমেশ্বদী ইউনিয়নের তামানারহাজী গ্রামে। তার দুটি ছেলে বড় ছেলে বন্ধ। তারা আরেক ছেলে টিলন (৩৬) সে অন্ধত্ব নিয়ে উত্তরবঙ্গের সান্তাহার এলাকায় ট্রেনে ট্রেনে পারুটি আর তিলে খাজা বিক্রি করে বেড়াই। আরেক মেয়ে রাশিদা (৩৪) সে অন্ধ। স্বামী নিয়ে বড়গাঁ সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে থাকে। তার ১ ছেলে সেও অন্ধ। টিলনের ১ ছেলে নাম খলিল (১৭) সেও অন্ধ। সে দিঘীরপাড় জামে মসজিদে মোয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত আছে।

এদের মধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা পায় খলিল, টিলন, লিটন রমেচা।

রমেচা বলেন, শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ আমাদের খবর পেয়ে আমাদের বাড়িতে এসে দেখে একটি ডোয়া পাকা ঘর বানিয়ে দিচ্ছেন আমাদের থাকার জন্য। ছাড়া আমাদের পরিবারে চারটি প্রতিবন্ধী ভাতা করে দিয়েছেন। বর্তমানে সে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা ও লোকজনের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে সংসার চালায়। তিনি আরো বলেন, আমরা সকলেই জন্ম থেকেই অন্ধ।

শেখর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, আমি ওই অন্ধ পরিবারের খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি তাদের থাকার কোন ঘর নেই। তাদের থাকার জন্য বড় একটি ডোয়া পাকা ভিতরে প্লাস্টার করে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেই নিজের অর্থায়নে। ঘরের কাজটি বর্তমান চলমান রয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি কাজটি শেষ হবে। এছাড়া তাদের পরিবারে চারটি প্রতিবন্ধী ভাতা করে দেই। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে অনুদান দেই। তবে এলাকার বৃত্তমানরা একটু সহযোগিতা করলে ওই পরিবারটি ভালোভাবে চলতে পারবে। তিনি আরো বলেন, আমি সবসময়ই সাধ্যমতো চেষ্টা করি সহযোগিতা করার জন্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button