শিরোনাম

স্কুলছাত্রী সুরাইয়ার এক চোখের আলো নিভে গেছে আরেকটিতে নিভু নিভু করছে

রাহুল সরকার, রংপুর : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সর্দারপাড়া। এ পাড়ারই একটি মাত্র টিনের তৈরি ঝুঁপড়ি ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বাস করেন দুলালী বেগম। স্বামী এমদাদুল হক কোথায় থাকেন কি করেন তা’ তার অজানা। একারণে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে দুলালী বেগমকে সংসার চালাতে হয়। হাজারো সীমাবদ্ধতা সত্তে¡ও তিনি সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভোলেননি। জময দু’মেয়ে সুরাইয়া খাতুন ও সুমাইয়া খাতুন মিঠাপুকুরের মৌলভীগঞ্জ হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আর একমাত্র ছেলে ইমরান নাজীর একই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।
বাবার অভাব, মা’র কষ্ট আর তার হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের কথা চিন্তা করে সন্তানরা পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী। একারণে তাদের স্কুল পরীক্ষার ফলাফল বরাবরই সন্তোষজনক হয়। কিন্তু সুরাইয়া খাতুনের অসুস্থতার মধ্য দিয়ে সবকিছুই যেন ওলট পালট হয়ে গেছে। কারণ সুরাইয়া খাতুনের বাম চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকলেও টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেননি। এতে একসময় বাম চোখটি বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় এগিয়ে আসেন এলাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। তারা স্থানীয় মানুষজনের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সুরাইয়ার চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে থাকেন। এরপর তারা সুমাইয়াকে নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আলফাজ খানের কাছে যান।
সুমাইয়ার চোখের পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান- বাম চোখ দ্রুত তুলে না ফেললে ডান চোখেও ওই রোগ ছড়িয়ে পড়বে। তখন দু’চোখই তুলে ফেলা ছাড়া চিকিৎসকদের আর কোন উপায় থাকবেনা। কিন্তু এতে বেশকিছু টাকা লাগবে বলে ওই চিকিৎসক সাফ জানিয়ে দেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সুমাইয়ার চিকিৎসায় আবারো অর্থ সংগ্রহে নামে। এরপর অর্থ সংগ্রহ করে চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসকরা সুমাইয়ার বাম চোখে তুলে ফেলে কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন করে। কিন্তু পরবর্তীতে ডান চোখেও একই সমস্যা ধরা পড়ে।
এবার চিকিৎসকরা আর কোন ঝুঁকি না নিয়ে সুমাইয়ার অবশিষ্ট চোখটি রক্ষায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। তখন থেকেই চলছে পরীক্ষা-নীরিক্ষা। চিকিৎসকরা বলছেন- চোখ না তুলে ফেলে শুমাত্র ওষুধে চোখ রক্ষা হলেও কমপক্ষে চার লাখ টাকার প্রয়োজন। আর চোখে কর্ণিয়া প্রতিস্থাপন করতে হলে দাতাসহ অনেক অর্থকড়ির প্রয়োজন হবে। চিকিৎসকদের এমন কথায় সুমাইয়াকে সহায়তাকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও হতাশ হয়ে পড়েছেন। কথা হয় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মশিয়ার রহমানের সাথে।
তিনি বলেন, এখন কি করব বুঝতে পারছিনা। এত টাকা এলাকায় সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তারপরও দল বেঁধে এলাকার বিত্তবানদের কাছে ছুটে যাচ্ছি। এতে যা পাচ্ছি তা’ দিয়ে সুমাইয়ার পরীক্ষা-নীরিক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছেনা। একারণে তিনি দেশের সকল বিত্তবানের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেছেন। এদিকে মা দুলালী বেগম বলেন, সুমাইয়া সংসারের অভাব দেখে বার বার বলত মা আমি শিক্ষিত হয়ে এমন কাজ করব যেন অভাবী মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটে। কিন্তু আজ সুমাইয়ার চোখের আলো নিভে যাচ্ছে। একজন মা হয়ে এ দৃশ্য কেমন করে সহ্য করি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেলেটি সংসার চালাতে এ বয়সেই ইটভাটায় কাজ নিয়েছে। তার আয়ে এখন সংসার চলে। আর এলাকার ছেলেদের সংগ্রহ করা অর্থে সুমাইয়ার চিকিৎসা চললেও অর্থভাবে এখনো মূল চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। তাই মেয়ের চিকিৎসায় দেশের সকল বিত্তবানের কাছে অর্থ সহায়তা চেয়েছেন মা দুলালী বেগম। (সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- দুলালী বেগম, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ০২০০০১৬৩৬৫৪৪০, অগ্রণী ব্যাংক বদরগঞ্জ শাখা এবং বিকাশ- ০১৮১৮-৫০৩৯৮৯)।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button