সাহসী সেই তিন চালকের খোঁজ নিয়ে পাশে দাড়ালেন বিজিবি জোন কমান্ডার

ওমর ফারুক সুমন : মনে আছে ভয়াল সেই ১৮ই মার্চ ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কথা ভোট গ্রহন শেষে ভোটের বাস্ক নিয়ে ক্লান্ত শরীরে সাজেক কংলাক,মাচালং, বাগাইহাট কেন্দ্র থেকে চাঁদের গাড়ী করে ফিরছিলেন উপজেলা সদরে, ৯ কিলোমিটার এলাকায় আসতেই আগেথেকে ওঁৎ পেতে থাকা ঘাতকের কমপক্ষে ৫ টি সংক্রিয় একে-৪৭ রাইফেল গর্জে উঠেছিলো নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে বহনকারী তিনটি চাঁদের গাড়ীর দিকে, কিছু বোঝে উঠার আগেই সারাদিনের ক্ষুদার্ত ক্লান্ত নিরপরাধ মানুষ গুলো বুলেটের আঘাতে ঝাঁজরা হয়েছিলো। দুই পিজাইডিং অফিসার সহ ৭ জন নিহত এবং আনসার, ভিডিপি, পুলিশ সহ ৩৩ জন মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছিলো। তাদের অনেকেই এখনো পঙ্গুত্ব কষ্ট আর যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন। অতর্কিত হামলার পর নিজের ঘাড়ে, ও শরীরে গুলি খেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পাহাড়ি সড়কের ৯ মাইল পথ গাড়ি চালিয়ে উপজেলা সদর হাসপাতালে পৌছে দিয়েছিলেন তিন যুবক চাঁদের গাড়ীর চালক ইসমাইল, আল-আমীন ও রুবেল। সংবাদ কর্মী বা সম্মুখ সারির কর্মী হিসেবে সেদিন একদম শুরুতেই উপস্থিত হয়েছিলাম হাসপাতালে রক্তাক্ত মানুষের আর্তনাদের ভিড়ে আমার চোখ আটকে গিয়েছিলো গাড়ীর চালকের আসনে বসা তিন অধম্য সাহসী মানুষগুলোর দিকে, চরম ঝুঁকি ও বিপদের সময়ও নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে একবিন্দুত পিছপা না হয়ে ধীরতার সহিত সব মানুষকে হাসপাতালে পৌছে দিয়েছিলেন। পরে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে উড়িয়ে নেয়। আর এ কারণেই সেইদিন অনেকগুলো মানুষের তাজা প্রাণ বেঁচে ফিরেছিলেন। ঘটনার পর তাদের কৃতিত্ব ও সাহসীকতার কথা প্রকাশিত হয়েছিলো ৭১ টেলিভিশন সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। পরে অনেক রথি-মহারথিদের আগমন ঘটে উপজেলায় সেই সাথে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্য এবং অধম্য সাহসী তিন চালককেও পুরোষ্কারের ঘোষণার ফুলঝুরির আশ্বাস মিলে। নামমাত্র কিছু অর্থ বরাদ্দ দিয়েই। কিছুদিন যেতেই সবাই ভূলে যান তাদের কথা। কিন্তু একজন মানুষ ঠিকি মনে রেখেছেন তাদের ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের মাননীয় জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল আনোয়ার হোসেন ভুইঁয়া, পিএসসি, আর্টিলারী স্যার। দীর্ঘদিন পর হলেও তাদের জোন সদরে ডেকে সকলের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার খোজ নেন এবং নিজের সাধ্যমত তাদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করেন। এবং আগামীতেও পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। এসময় সেইদিনের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন তিন চালক , মারিশ্যা জোন কমান্ডারের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যে স্যার তাদের খোঁজ নিয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্ন আহত ব্যাক্তিদের খোজ নেন জোন কমান্ডার, তাদের পাশে দাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।




