
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মাদক দিয়ে ফাঁসানো মামলায় গ্রেফতারকৃত ইসারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের হস্তকক্ষেপ কামনা করে মাদক বন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
রবিবার সকাল ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর ইউনিয়নের দ্বোভাগী ফিল্ডের হাট এলাকায় দ্বোভাগী এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার শিক্ষক,ছাত্র,কৃষক,শ্রমিক সহ বিভিন্ন পেশার শতাধিক নারী পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন।
মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাজানো মাদক মামলায় গ্রেফতারকৃত ইসারুল ইসলামের স্ত্রী মোসা: রিমা বেগম। তিনি বলেন আমার স্বামী একজন কৃষক। কৃষি কাজ করেই সংসার চালায়। সোর্স নামীয় আনারুল ইসলামের নেতৃত্বে পদ্মার নদীর চরেপ্রতিদিন শতশত ট্রাক/কাকড়া বালু উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকারবাসীর সাথে হয়ে প্রতিবাদ করায় আনারুল ষড়যন্ত্র করে আমার স্বামীকে হিরোইন সাদৃশ্য মাদক দিয়ে বিজিবির মাধ্যমে আটক করিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। বর্তমানে আমি নাবালক চার সন্তান নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছি। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই এবং ষড়যন্ত্রকারী কথিত সোর্স আনারুরের বিচার চাই। ইসারুল ইসলামের পিতা এনামুল হক বলেন আমি আমার নির্দোষ ছেলে ইসারুলের মুক্তি চাই ও আনারুলের বিচর চাই। আর যেন কেউ আনারুলেল ষড়যন্ত্রে পড়ে হয়রানীর শিক্ার না হয়। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ইসারূল ইসলামের মা গোলেনুর বেগম, তার ভাইয়ের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, এলাকার শামীম রেজা,রুবেল,হারুন অর রশিদ, মামুন অর রশিদসহ আরো অনেকেই।
বক্তরা বলেন একমাত্র সোর্স নামীয় আনারুল ইসলাম সাজানো মাদক মামলায় একের পর এক মানুষকে চরম হয়রানী করে আসছে। পদ্মার চরে বালু উত্তোলনে তাকে নিষেধ করলেই সে এধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিককালে আনারুল এলাকার পাঁচজনকে এভাবে মাদকের সাজানো মিথ্যা মামলায় চরমভাবে হয়রানী করেছে। কেউ কেউ বেকসুর খালাস পেয়েছে। কেউ কেউ এখনো মামলায় ঝুলছে। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নায্য বিচার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টির কামনা করছি।
এবিষয়ে দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আজম আলি বলেন, ঘটনাটি আমার দৃষ্টিতে সাজানো। কারণ ইসারুল ইসলাম একজন কৃষক। সেদিন সে কৃষি কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসার আগে থেকে নৌকায় রাখা হিরোইন সাদৃস্য মাদক দিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তাছাড়া এলাকাবাসীর সাথে দীর্ঘদিন যাবত পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আনারুলের দ্বন্দ চলছে।
তবে সোর্স নামীয় আনারুল ইসলাস তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার বলেন আমি কাউকে মাদক মামলায় ফাঁসায়নি। প্রশাসনের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এলাকার কারো সাথে আমার কোন দ্বন্দ নেই। শুধু আমার একটি ট্রাক/কাকড়া আছে। হালকা বালু উত্তোলনের ব্যবসা করি।
এ ব্যাপারে বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ন লে: কর্ণেল মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে ঘটনা স্থলে বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে মাদক সহ ইসারুল ইসলামকে আটক করি। তবে তদন্ত করা আমাদের দায়িত্ব নয়। তদন্ত করবে পুলিশ প্রশাসন।



