
পতাকা ডেস্ক: বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করায় শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ২০০৬ সালে যে গোল্ড মেডেলটি পেয়েছিলেন, মনে করেছেন একইভাবে খেলে এখনো মেসির মতো গোল করা যাবে। ২০ বছর আগের সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে। সারা দেশের বড় অংশ পানিতে ডুবে গেছে। স্কুল-মাদরাসা পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ আপনি এখনো এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করার প্রয়োজন মনে করেননি। যদি একজন শিক্ষার্থী যাওয়া-আসার পথে পানিতে ডুবে মারা যায়, তাহলে কি তার জীবনে পরীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল? নাকি বেঁচে থাকা গুরুত্বপূর্ণ?
সোমবার ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় ফেনী শহরের একটি কনভেনশন হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটে রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সারা দেশে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে পিচ উঠে গেছে। এই গর্তের কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়ে যাবে। আমাদের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কোথায়? জরুরি সেবাগুলো কোথায়? রাষ্ট্র যখন মহামারিতে বিপর্যস্ত হয়ে গেছে, তখন আমরা দেখতে পাচ্ছি গুরুত্বপূর্ণ কোন আলোচনা সংসদ করছেন না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা সেইভাবে কোন পরিকল্পনা দেখতে পাচ্ছি না। ২৬ এর সংকট যেন ২৭ এ যেন ফিরে না আসে সেজন্য প্রধানমন্ত্রীকে এখন পরিকল্পনা করতে হবে। অন্যথায় এই রাষ্ট্র প্রতিবছর মরমী সংগীত গেয়ে বুক চাপড়াবে।
ভারতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, উজানে এতো পানি কোথায় থেকে এসেছে? বন্ধু রাষ্ট্র ছেড়ে দিয়েছে তাই না? এমন বন্ধু থাকলে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার দরকার হবে না। একদম শেষ রাতে আজানের আগেই আপনার জন্য তবারক পাঠিয়ে দিবে। এত তবারক পাঠাবে যে আজীবন ওই পানি খেতে খেতে ডুবে মরে যাবেন। দাফন-কাফনও করা লাগবে না। বাংলাদেশকে সেই তবারকের রাজনীতিও করতে হবে।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাষ্ট্রকে সবার করাই হলো এ জুলাইয়ের লড়াই। আমরা কোটা চাই না। আমরা সবাইকে নিয়ে এ রাষ্ট্রকে উপভোগ করতে চাই, মালিকানা দাবি করতে চাই। এজন্য বারবার নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলা হয়েছে। যখনই আমরা নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির আলাপ তুলতেছি, তখন সরকারি দল থেকে শুরু করে এদেশের ক্ষমতার কাঠামোতে যারা বসে আছেন তারা প্রত্যেকদিন চাচ্ছেন আমাদের পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তে অভ্যস্ত করতে।
বিএনপি ওয়াদা ভঙ্গ করেছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, এখানে আমরা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লড়াই করছি, যেটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল, যেটও নতুন সরকারের কাছে আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল। তারা সেই আকাঙ্খার সাথে বারবার বেইমানি করছে। শুধু জুলাই সনদ নয়, তারা গণভোটের গণরায়কে নিয়েও একটা কথা বলছেন না। অথচ তাদের প্রস্তাবে গণভোট অধ্যাদেশ ও গণভোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তারা দলের ৩১ দফার মধ্যে অন্তত ৬-৭টি দফা ইতোমধ্যে লঙ্ঘন করেছে। সেটি তো জামায়াত, এবি পার্টি বা এনসিপি বানিয়ে দেননি। তাহলে সেটি মানতে সমস্যা কোথায়?
তিনি বলেন, ৩১ দফার প্রথম দফা ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। আমরা সবাই তো আপনাদের প্রথম দফার সাথে ঐক্যমত হয়েছিলাম। আপনারা কি শুধু জুলাই সনদ লঙ্ঘন করলেন, নাকি নিজ দলীয় ৩১ দফাও লঙ্ঘন করলেন? যে দল তার নিজের করা, তার বডিতে পাস হওয়া, জাতির সাথে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করছে, সেই দল মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের লড়াই কিভাবে করবে?এটাই জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আপনাদের রাজনীতির পথে ফিরে আসেন। তা না হলে মনে রাখবেন বুকের ভেতর যে অনেক ঝড় আছে, তা শুধু জুলাই-আগস্টে নয়, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টির আবাবিলের মত হয়ে আবার বাললাদেশে ফিরে আসবে। তারা আবার লড়াই করবে। এই লড়াই থেকে আপনারা পার পাবেন না। বাংলাদেশ গড়ার এ লড়াইয়ে আসুন সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করি।
জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা আমির মুফতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।



