রাম-কৃষ্ণকে অপমান, অনুষ্কা-কোহলি দেশদ্রোহী

ঘাম ঝরিয়ে দেশের জন্যই খেতাব জয় করে আনেন তিনি। ভারতের ক্রিকেট দলের দায়িত্ব তার কাঁধেই। দেশের জয় ভিন্ন অন্য কোনো ভাবনাকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেন না। বিশেষজ্ঞরা পর্যন্ত বিরাট কোহলির এই আগ্রাসি মনোভাবের প্রশংসা করেছেন। অসংখ্য দেশবাসী তার কাজে প্রেরণা পান। সেই ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির বিরুদ্ধেই এবার দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনলেন ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক পান্নালাল শাক্য।
কেন এরকম অভিযোগ বিজেপি নেতার?
তার বক্তব্য, ইটালিতে বিয়ে করেই বিরাট প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তিনি দেশভক্ত হতে পারেন না। নেতার মতে, ভগবান রাম তো দেশের মাটিতেই বিয়ে করেছেন। স্বয়ং কৃষ্ণেরও বিয়ে হয়েছে এ ভারতভূমিতে। তাহলে বিরাট কেন দেশের বাইরে বিয়ে করেছেন। যিনি এরকম কাজ করতে পারেন, তিনি আর যাই হোক দেশভক্ত হতে পারেন না। অন্তত এই নেতার মত সেরকমটাই।
নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। তার দাবি, বিরাট এ দেশের ছেলে। এ দেশের হয়ে খেলেই তিনি অর্থ উপার্জন করেছেন। নাম-ধাম, সম্মান-খ্যাতি সব এ দেশের দৌলতেই। অথচ বিয়ের সময় তিনি দেশের কথা ভুলে গেলেন। এরকম ব্যক্তি দেশের সামনে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হতে পারেন না বলেই মত তার।
একই অভিযোগ অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মার বিরুদ্ধেও। তিনিও দেশপ্রেমের পরিচয় দেননি বলেই সাফ কথা বিজেপি নেতার।
বিরাটের দেশপ্রেম নিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেননি। দেশের জন্য তার লড়াই, জেদের তারিফই শোনা গিয়েছে। বিয়ে প্রত্যেকের জীবনের ব্যক্তিগত বিষয়। বিরাট-অনুষ্কার বিয়ে একদিকে ছিল হাই প্রোফাইল। ভিড়ভাট্টা এড়াতে বিদেশের মাটি বেছে নিয়েছিলেন তারা। তার উপর এখানে ব্যক্তিগত পছন্দও আছে।
শোনা গিয়েছিল, টাস্কানির যে রিসর্টে বিয়ে হয়েছে সেখানে তাদের আগেও দেখা হয়েছিল। জায়গাটি অনুষ্কার খুব প্রিয়ও ছিল। সুতরাং এ তাদের একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়। তার সঙ্গে যে দেশপ্রেমের প্রশ্ন জড়িয়ে থাকতে পারে, তা কেউ ভেবেও দেখেননি। বিজেপি নেতার এই দাবিতে তাই তাজ্জব ভারতবাসী।
অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেয়া হযেছে। জানানো হযেছে, গুজরাট ভোটের হতাশার জেরেই এই মন্তব্য। কংগ্রেসের ব্যাখ্যা, গুজরাট ভোট দেখিয়ে দিয়েছে যে, উন্নয়ন ইস্যুতে বিজেপি এঁটে উঠতে পারবে না। সামনে মধ্যপ্রদেশ ভোট। সুতরাং যেনতেন প্রকারেণ দেশপ্রেমের জিগির জাগিয়ে তুলেই ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে। তাই কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে বিরাটের দেশপ্রেমকে।
মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেসের মুখপাত্র পঙ্কজ চতুর্বেদী জানিয়েছেন, বিজেপি যতই চেষ্টা করুক, এরকম কৌশল কাজে লাগবে না। বিরাট-অনুষ্কার পক্ষ থেকে অবশ্য এই মন্তব্যের এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।



