sliderস্থানিয়

রাঙ্গামাটি হাসপাতালে রেডিওলজি বিশেষজ্ঞের পদায়ন: দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে রাঙ্গামাটিবাসীর। বহু বছর ধরে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় রোগী, স্বজন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নানামুখী ভোগান্তির শিকার হতে হতো। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদান সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং আইনগত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজে সৃষ্টি হতো দীর্ঘসূত্রতা।

সম্প্রতি রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নতুন একজন রেডিওলজি ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন হওয়ায় এ দীর্ঘদিনের সংকট দূর হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে রোগীরা অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন ইমেজিং পরীক্ষার নির্ভুল রিপোর্ট পাচ্ছেন। এতে রোগ দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা সহজ হবে এবং রোগীদের সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

এর আগে হাসপাতালে এক্স-রে পরীক্ষা করা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীদের হাতে শুধু ফিল্ম তুলে দেওয়া হতো। কারণ সেই ফিল্ম বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট দেওয়ার মতো কোনো রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন না। ফলে অনেক রোগীকেই চট্টগ্রাম বা অন্যত্র গিয়ে রিপোর্ট করাতে হতো। এতে চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ও বহন করতে হতো।
বিশেষ করে ধর্ষণের শিকার নারীদের মেডিকোলিগাল পরীক্ষা, আদালতের নির্দেশে বয়স নির্ধারণ এবং বিভিন্ন আইনগত জটিলতার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এসব রোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চট্টগ্রামে পাঠাতে হতো। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হতো, অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের মানসিক ও শারীরিক কষ্ট আরও বেড়ে যেত।চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন রেডিওলজি ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্ব হলো এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন ইমেজিং পরীক্ষার ছবি বিশ্লেষণ করে রোগের প্রকৃতি নির্ণয় করা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের জন্য লিখিত প্রতিবেদন বা রিপোর্ট প্রস্তুত করা। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই রোগীর পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। ফলে দক্ষ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি একটি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের যোগদানের ফলে এখন রোগীরা স্থানীয়ভাবেই মানসম্মত ও নির্ভুল ইমেজিং রিপোর্ট পাচ্ছেন। এতে জরুরি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষকে আর ছোটখাটো পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে হবে না।

স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি চিকিৎসক পদায়ন নয়; বরং রাঙ্গামাটির স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। দীর্ঘদিনের একটি বড় সংকট নিরসনের ফলে জেলার হাজারো মানুষ এখন উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই সেবার মাধ্যমে রোগীদের আরও দ্রুত, নির্ভুল ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ থেকে সেবা গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ পূরণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button