sliderস্থানিয়

মানিকগঞ্জে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত: ৩৬ নারী কৃষাণীকে সম্মাননা

মো.নজরুল ইসলাম,মানিকগঞ্জ: “নারীর জ্ঞান, যত্নে বাঁচাও পরিবেশের প্রাণ” এবং “গ্রামীণ নারীর উত্থান: বেইজিং+৩০ এর সাথে একটি স্থিতিস্থাপক ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে কৃষি ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মানিকগঞ্জ অঞ্চলের ৩৫ জন নারী কৃষাণীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী মানিকগঞ্জের কৈতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ভারতী মন্ডল ও গুরুদাস মন্ডলের বাসভবনে স্থানীয় গ্রামীণ নারীদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক (BARCIK), স্টেপ টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, গ্রিন কোয়ালিশন, মিজারিওর, ইনকোটা এবং দ্য সোয়ালজ ইন্ডিয়া বাংলাদেশের যৌথ সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত হয়।
গ্রামীণ নারীনেত্রী আসমা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং উন্নয়নকর্মী রাশেদা আক্তার ও আয়েশা মোস্তাফিজ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

অতিথিরা বক্তব্যে বলেন, “কৃষি কাজের আদি সূচনা ঘটেছিল নারীর হাত ধরেই। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে গ্রামীণ নারীদের কোনো বিকল্প নেই। গ্রামীণ নারীদের শ্রম, জ্ঞান ও অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান তাদের কাজের পরিধিকে আরও উৎসাহিত করবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মৌসুমি নাসরিন, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রুশিয়া আক্তার, গ্রিন কোয়ালিশন সভাপতি কৃষিবিদ ড. আব্দুল খালেক, অধ্যাপক আনিসুর রহমান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস এবং শিক্ষক নেতা মির্জা ইস্কান্দার।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস, স্টেপ টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের সমন্বয়কারী খাদিজা মাহবুব সন্ধা এবং বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়।

সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ গ্রামীণ পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায় বিশেষ অবদান রাখায় নার্গিস বেগম, রেশমা আক্তার, বাসনা বিশ্বাস, চায়না আক্তার, পারভীন আক্তার, মমতাজ বেগম, রওশনারা বেগম, শামসুন্নাহার বেগম, আঁখি আক্তার, ছালেহা বেগম, রহিমা বেগম, শুভলক্ষী রানী দাস, চম্পা রানী লৌহকর, কবিতা রানী লৌহকর, বাস্তী রায়, আইরিন আক্তার, জহুরা বেগম, ফাতেমা বেগম, লাভলী বেগম, শুভারানী রায়, ডলি বেগম, খালেদা বেগম, রাশেদা বেগম, লিপি বেগম, আরজু আক্তার, সবিতা রানী সরকার, সুচিত্রা রানী দাস, নার্গিস ফাতেমা, কমলা বেগম, সেলিনা বেগম, মঞ্জু আক্তার, হোসনেআরাসহ ৩৬ জন কৃষাণীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

বিশেষ আকর্ষণ—প্রাণবৈচিত্র্য মেলা: দিবসটি উপলক্ষে প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বিশেষ ‘গ্রামীণ প্রাণবৈচিত্র্য মেলা’। মেলায় স্থানীয় কৃষাণীদের মাধ্যমে রক্ষিত দেশীয় বীজ, চাষকৃত উদ্ভিদের বৈচিত্র্য প্রদর্শন, ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খাদ্য ও পিঠা উৎসব, হস্তশিল্প এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি উপকরণসহ উদ্ভাবনী বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শিত হয়, যা আগত অতিথিদের দারুণভাবে আকর্ষিত করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button