sliderস্থানিয়

শিবগঞ্জে জরিপ ও ডাক্তারী সনাক্ত ছাড়াই হচ্ছে প্রতিবন্ধী ভাতা,মূল হোতা সুফিয়া

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : শিবগঞ্জে কোন জরিপ ও ডাক্তারী সনাক্ত ছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতা চালু করে শতাতিক অসহায় মানুষের টাকা মোবাইল নম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আত্মসাত করেছের মোসা: সুফিয়া বেগম নামে এক মহিলা দালাল। এ প্রতিবন্ধী ভাতা চালু করতে কোন জরিপ করতে হয়নি এবং ডাক্তারী শনাক্তও হয়নি। মহিলা দালাল হলো শিবগঞ্জ উপজেলা মোবারকপুর ইউনিয়নের আন্দোপাড়া গ্রামের তোহরুল ইসলামের স্ত্রী।

তবে সুফিয়া বেগম এ অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যম কর্মীদেরকেই পাল্টা হুমকী দেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছেন যে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সরজমিনে গত কাল মোবারকপুর ইউনিয়নের দাইপুখুরিয়া গ্রামে সরাসরি ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে গেছে প্রায় এক হতে দেড় বছর আগে ওই গ্রামের একসংগে ১০/১২জন প্রতিবন্ধী ভাতার চালু করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জন প্রতি ১০ হাজার দাবী করে এবং ছবি ও জাতীয় পরিচায় পত্র নেয়। পরে আমরা টাকা দিতে না পারায় ভাতা চালু হয়নি বলে সুফিয়া জানিয়েছে । তবে বর্তমানে ফ্যামেলী কার্ডেরে জরিপে জানতে পারি যে আমাদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা চালু আছে এবং অন্য মোবাইল নম্বরে টাকা ঢুকছে। দাইপুখুরিয়া গ্রামের মোসা: আমেনা বেগম প্রায় এক বছর আগে সুফিয়া বেগম আমার কাছে ১০হাজার টাকা,আইডি কার্ড ও ছবি চেয়েছিল। আইডি কার্ড ও ছবি দিয়েছিলাাম এবং টাকা দিতে পারিনি। তাই ভাতা হয়নি বলে সুফিয়া জানিয়েছে। কিন্তু ফ্যামেলী কার্ডের জরিপে জানতে পারি যে আমার নামে প্রতিবন্ধী ভাতা চালু আছে। একই কথা বললেন একই গ্রামের আয়েশা বেগম জানান আমার নামে প্রতিবন্ধী ভাতা চালু করে সুফিয়া বেগম তার নিজস্ব ফোন নম্বর ০১৩৩৩৭৮৪৪৭১ এ টাকা ঢুকছে। আরো বেগম বিবি, রিজিয়া বেগম,জুবেদা বেগমসহ প্রায় ১০জন অসহায় মহিলার একই অভিযোগ। তারা সবাই জানান যে আমাদের কোন অফিসে ডাকেনি । তাবে ফ্যামেলী কার্ডের জরিপকালে জানতে পারি যে আমাদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা চালু হয়েছে তবে টাকা অন্য নম্বরে ঢুকছে।
মোবারকপুর ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়র্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য আয়েমা বেগম জানান সুফিয়া বেগম প্রায় ১০/১২ বছর থেকে সমাজ সেবা সহ বিভিন্ন অফিসে দালালী করে। আমাদের এলাকাতেও প্রায এক শ লোকের কাছে এভাবে টাকা নিয়েছে এবং ভাতা চালু করে নিজেই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করছে। আমার দাবী এলাকার ভুক্তভোগীরা টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা ও তার বিচার হোক। তিনি আরো জানান আামি অন্য একটি সূত্রে জানতে পেরেছি বর্তমানে ফ্যামেলী কার্ডের জরিপ চলছে সেখানে প্রায় ১২জনের নিকট হতে ফ্যামেলী কার্ড করে দিবে বলে ১০ হাজার টাকা করে চুক্তি করছে কয়েকজনের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং দুইজন টাকা দিতে না পারায় ফ্যামেলী কার্ড হবে না জানিয়েছে সুফিয়া ও তার দোসর।
শুধু আয়েশা বেগমই নয় এলাকার অনেকের একই অভিযোগ ও দাবী। এ বিষযে সুফিয়া বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে ফোন করে আন্ডার গ্রাউন্ডের কিছু লোক জন উপস্থিত করে এবং একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে দিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ফোনে কথা সুপারিশ করান। শুধু তাই সে নিজে ও তার বোনকে দিয়ে হুমকী দিয়ে ছবি ডিলেট করতে বলেন। মোবারকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মাহমুদুল হক হায়দারী বলেন,কোন জরিপ ও ডাক্তারী সনাক্ত ছাড়াই কিভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা চালু ও আত্মসাত হয় এবং এ সমস্ত দালালরা কিভাবে সমাজ সেবা অফিসে সুযোগ পাই তা অবাক করার ঘটনা। তিনি আরো জানান আমি জেনেছি যে ওই মহিলা, একজন সাবেক জন প্রতিনিধি ও আরো কয়েকজনকে দিয়ে গণমাধ্যম কর্মীকে হুমকী প্রদর্শন করিয়েছে। তার সঠিক তদন্তপূর্বক বিচার দাবী করছি।

এদিক শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের মোবারকপুর ইউনিয়ন মাঠকর্মী পলাশ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ কিছুটা উপেক্ষা করে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ম্যানেজ করা চেষ্টা করেন। তবে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন মোসা: সুফিয়া বেগম দীর্ঘদিন যাবত দালালী ও মাদকের সাথে সংপৃক্ত থাকায় তার খুঁটির জোর বেশ শক্ত। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো: নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব। জরিপ ও ডাক্তারী সনাক্ত ছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতা চালু ব্যাপারে তিনি বলেন তদন্ত করে দেখবো। উপজেলা নির্বহী অফিসার মো: মাজহারুল ইসলাম বলেন সমাজ সেবা অফিসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া জন্য । প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নিব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button