
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ নানা কারণে স্প্যানিশদের কাছে গুরত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক অবস্থান, সম্পদ ও ঐতিহাসিক কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ও রাজনীতির কেন্দ্রস্থলও মাদ্রিদ। তবে একদিনের জন্য বদলে যায় মাদ্রিদের চিত্র। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল একপ্রকার বন্ধ করে দেওয়া হয়। শহরবাসীও একদিনের জন্য সেইভাবে নিজেদের কর্মপরিকল্পনায় একটু পরিবর্তন আনেন। একদিনের জন্য মাদ্রিদের বদলে যাওয়ার কারণ ফিয়েস্তা দে লা ক্রানশুমানসে উত্সব। এই উত্সব উপলক্ষে হাজার হাজার ভেড়া হাজির হয় মাদ্রিদের রাস্তায়।
ঋতুর পরিবর্তনে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় এক জায়গা থেকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় এই ভেড়াদের। তবে মেষপালকরা শুধু একদিনের জন্যই মাদ্রিদের মধ্য দিয়ে ভেড়া নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। শহরের ওপর দিয়ে অবাধে ভেড়ার পাল নিয়ে যাওয়ার জন্য মধ্যযুগ থেকে মারাভেদি পরিশোধ করতে হত মেষপালকদের। ১৪১৮ সালের ঐ চুক্তি অনুযায়ী প্রতি হাজার ভেড়ার জন্য মেয়রকে ৫০ মারাভেদি পরিশোধ করার নিয়ম করা হয়।
শত শত বছর ধরে স্পেনে এই রীতি প্রচলিত। মধ্যে অনেক বছর বন্ধ ছিল এই উৎসব। তবে ১৯৯৪ সালে আবারো চালু হয়েছে মাদ্রিদের রাস্তা দিয়ে ভেড়া নিয়ে যাওয়ার নিয়ম। প্রাচীনকালে কোনো জায়গায় ভেড়ার সংখ্যা বেড়ে গেলে সেখানে তাদের খাবারের অভাব দেখা দিতে পারে এই আশঙ্কায় সেগুলোকে এক জায়গা থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রীষ্মে ভেড়াগুলোকে উঁচু অঞ্চল থেকে নিয়ে যাওয়া হতো নিঁচু অঞ্চলে। আর শীতে ঘটতো ঠিক বিপরীত ঘটনা।
মাদ্রিদের সুসজ্জিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাস্তার উপর দিয়ে হাজার হাজার ভেড়া নিয়ে যাওয়ার সময় তা সহজেই শহরবাসীর নজর কাড়ে। ভেড়াগুলোকে শহরের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় মেষপালকরাও বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। মেষপালকরা ভেড়ার পালের সামনে নেচে-গেয়ে ভেড়ার পালকে পথ দেখান। শহরবাসীও বেশ উত্সাহ নিয়ে ভেড়ার পালের সঙ্গে সেলফি তোলেন। একটি দিনের জন্য নিত্যদিনের অভ্যাসে একটু পরিবর্তন আনতে হলেও শহরবাসীর কাছে এখনো সমান জনপ্রিয়। তবে হতাশার কথা, প্রতিবছরই মাদ্রিদ পার হওয়া এই অতিথি ভেড়ার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে।




