মন্ত্রণালয়কে বেকায়দায় ফেলতে প্রশ্ন ফাঁস : শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য শিক্ষকদের দায়ী করার একদিন পর শিক্ষামন্ত্রী বললেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বেকায়দায় ফেলতে প্রশ্ন ফাঁস করে তা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এর দায়ভার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একার নয়, সমাজিক অবক্ষয়ও প্রধান কারণ।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ সোমবার সকালে ডেমরার মাতুয়াল আনন্দ প্রিন্টিং প্রেস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন। ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও প্রাথমিকের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার সর্বশেষ পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনে আনন্দ প্রিন্টিং প্রেস এবং ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেস পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, এ দু’টি প্রেসে কার্যাদেশ পাওয়া সব বই ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিয়েছে। মাধ্যমিকের সুখপাঠ্য বই ছাপার কাজ এখনও যারা শেষ করতে পারেনি, এরূপ চিহ্নিত তিনটি প্রেস (কচুয়া, মডার্ন এবং ফাইভ স্টার প্রেস) মন্ত্রী পরির্দনে যাননি। এনসিটিবি’র কর্মকর্তরা মন্ত্রীকে যেসব ছাপাখানা শতভাগ কাজ আগেই সম্পন্ন করেছে এমন প্রেস পরিদর্শনে নিয়ে যান। এ নিয়ে মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন ফাঁস যুগ যুগ ধরে হচ্ছে। আগে এতো বেশি প্রচারণা হতো না, এখন গণমাধ্যম বেড়ে যাওয়ায় তা সর্বস্তরে প্রচার হয়ে যাচ্ছে। এখন এর (প্রশ্নপত্র ফাঁসের) মূল হোতা আমাদের শিক্ষকরা। সরকারকে বিপদে ফেলতে পাবলিক পরীক্ষার দিন সকালে শিক্ষকরা প্রশ্ন পেয়েই ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা ফাঁস করে দিচ্ছেন।
প্রশ্ন ফাঁস রোধে তার মন্ত্রণালয়ের তৎপরতার ফিরিস্থি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আমরা নানা প্রচেষ্টায় প্রশ্ন ফাঁস কমিয়ে এনেছি। আগে প্রশ্ন ছাপাখানা বিজি প্রেস ছিল প্রশ্ন ফাঁসের আখড়া। আমরা নানাভাবে সেখানে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করেছি। এ কারণে আগের চেয়ে এখন প্রশ্ন ফাঁস কমে গেছে। বর্তমানে আমাদের শিক্ষার চালক শিক্ষকরা প্রশ্ন ফাঁস করছেন। পরীক্ষার দিন সকালে তাদের হাতে প্রশ্ন গেলেই তারা বিভিন্ন কৌশলে প্রশ্ন ফাঁস করছেন। এরপর তা বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা এসব শিক্ষকদের নজরদারিতে রেখেছি। ইতোমধ্যে এমন কয়েকজন শিক্ষককে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যারাই এমন অনৈতিক কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকবে তাদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে। প্রশ্ন ফাঁস রোধে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
পাঠ্যপুস্তকের সার্বিক দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ১৬২টি পাঠ্যপুস্তক ছাপা হয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে ৯৭ শতাংশ বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে গেছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাকি বই পৌঁছে যাবে।
ছাপাখানা পরিদর্শকালে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শাখার অতিরিক্ত সচিব মুফাদ আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রম বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারয়ণ চন্দ্র সাহা ও মন্ত্রণালয়ের ও এনসিটিবি’র কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সাথে ছিলেন।




