
ভারতে মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী বিমান অপরহণের আতঙ্ক ঠিক কীভাবে ছড়িয়েছিল তা চিহ্নিত করেছে দেশটির পুলিশ। এক বিমানবালার প্রেমে পড়া এক যাত্রীই এই কাণ্ডটি ঘটায় বলে জানা গেছে। নিজের কীর্তির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বিজনেস ক্লাসের ওই যাত্রী।
বিমানের টয়লেটে ইংরাজি ও ঊর্দুতে লেখা ছোট্ট একটা চিরকুট দেখতে পেয়েছিলেন এক বিমান সেবিকা। তাতে লেখা ‘বিস্ফোরক-সহ হাইজ্যাকার রয়েছে প্লেনে’। বিমানের মুখ ঘুরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়া না হলে প্লেনে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।’
সময় নষ্ট না করে তখনই পাইলটকে জানান ওই বিমানবালা। তড়িঘড়ি এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জেট এয়ারওয়েজের বিমানটির চালক। সোমবার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে নিকটতম এয়ারপোর্ট আহমেদাবাদে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।
আহমেদাবাদে প্লেন খালি করে সব যাত্রীর খানাতল্লাশি চালানো হয়। যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময়ই সাল্লা বিরজু নামে ওই যাত্রী সব স্বীকার করে নেন।
এই ব্যক্তিই গত জুলাই মাসে জেটের বিমানে খাবারে আরশোলা রয়েছে বলে গোলমাল বাঁধিয়েছিলেন।
তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
যাত্রীদের বিশদে কিছু না জানানো হলেও বিমানের জরুরি অবতরণের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ বলা হয়।
বিপজ্জনক কিছু পাওয়া না যাওয়ায় একে ভুয়া হুমকি হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।
১১৫ জন যাত্রী ও সাত জন বিমানকর্মীসহ সকাল ৬.৪০ মিনিটে বিমানটি ফের দিল্লির উদ্দেশে উড়ে যায়। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
নকল অস্ত্র দেখিয়ে লিবিয়ার বিমান ছিনতাই
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে লিবিয়ার একটি বিমান ছিনতাই হয়েছিল নকল অস্ত্র দেখিয়ে। ছিনতাই হওয়া লিবিয়ার বিমানের সব যাত্রী ও ক্রুদের পরে মাল্টা বিমানবন্দরে ছেড়ে দেন দুই ছিনতাইকারী। এর পর তারা মাল্টার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ছিনতাইকারী দুজনের যে অস্ত্র ছিল, তা নকল।
লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী আফ্রিকিয়াহ এয়ারওয়েজের বিমানটি গ্রেনেড দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ছিনতাই করে দুই ব্যক্তি।
এর পর মাল্টা সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রথমে ভাবা হয়েছিল বিমান ছিনতাইকারীদের কাছে গ্রেনেড ও পিস্তল আছে। কিন্তু পরে দেখা যায়, তারা দুটি নকল অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখাচ্ছিল।
মাল্টার প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাস্কাট বলেছেন, ছিনতাইকারীদের নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে লিবিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানটি লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাবাহ থেকে দেশটির রাজধানী ত্রিপোলির দিকে যাচ্ছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যে দুই ব্যক্তি অস্ত্র দেখিয়ে বিমানটি ছিনতাই করে। এর পর বিমানটি বাধ্য হয়ে মাল্টায় নামে।
মাল্টার টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, বিমানের দরজা খুলে নারী ও শিশুদের প্রথমে ছেড়ে দেয় ছিনতাইকারীরা। পরে পুরুষদেরও মুক্ত করে দেয় তারা।
মাল্টার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইটিয়েন সেন্ট জন বলেছেন, তাঁর দেশের সশস্ত্র বাহিনী ছিনতাইকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে।
সেবা থেকে ত্রিপোলি না নিয়ে ভূমধ্যসাগরের ছোট দ্বীপদেশ মাল্টায় বিমানটি অবতরণ করলে সেখানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ছিনতাইকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
সেবা শহরে রাজনৈতিক সহিংসতা লেগেই থাকে। দেশটির প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুসারী ও তাঁর বিপক্ষ গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়।
২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন। বিদ্রোহীরা তাঁকে হত্যা করে। এর পর থেকে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদার উত্থান হয় দেশটিতে।




