
বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণের জন্য দায়ী কেরানীগঞ্জের ৩০ ওয়াশিং প্ল্যান্টসহ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কারখানার বিরুদ্ধে মামলা করতে ঢাকা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদীর পানিতে বা তীরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে তদারকী করতে ঢাকার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কেরানীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কেরানীগঞ্জের ৩০টি ওয়াশিং প্ল্যান্টগুলো হলো- আহামদ হোসেন ওয়াশিং, আমেনা ওয়াশিং, সানমুন ওয়াশিং, ইডেন ওয়াশিং, বিসমিল্লাহ ওয়াশিং, লোটাস ওয়াশিং, গ্লোবাল ওয়াশিং, রুবেল ওয়াশিং, আনুষ্কা ওয়াশিং, সততা ওয়াশিং, চঞ্জল ওয়াশিং, আব্দুর রব ওয়াশিং, ঢাকা ওয়াশিং, আজান ওয়াশিং, নিউ সাহারা ওয়াশিং, দোহার ওয়াশিং, রিলেটিভ ওয়াশিং, নিউনাশা ওয়াশিং, ইউনিক ওয়াশিং, মৌ ওয়াশিং, সেতু ওয়াশিং, কোয়ালিটি ওয়াশিং, জুয়েনা ওয়াশিং, কামাল ওয়াশিং, ওয়াটার কালার ওয়াশিং, পারজোয়ার ওয়াশিং, জিএম ওয়াশিং, কুমিল্লা ওয়াশিং, আছিয়া ওয়াশিং, ও লিলি ওয়াশিং।
রোববার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আমাতুল করিম। রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হোসেন। পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদফতর অবৈধ বা বুড়িগঙ্গা নদী দূষণকারী কারখানা বন্ধ করে দেয়। দু-দু’বার বন্ধ করার পারও কারখানাগুলো আবারো চালু করা হয়েছে।
ফলে আগের মতোই দূষণের শিকার হচ্ছে বুড়িগঙ্গার পনি। কিন্তু পরিবেশ আইন অনুযায়ী দূষণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান থাকলেও পরিবেশ অধিদফতর এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করেনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তিনি আরো বলেন, পরিবেশ অদিদফতরের দাখিল করা প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ৩০টি ওয়াশিং প্ল্যান্ট রয়েছে সেখানে। সেগুলো মারাত্মক পানি দূষণ করছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেয়া প্রয়োজন। না হয় দূষণ বন্ধ হবে না। এমন আরজি জানালে আদালত এই ৩০টি ওয়াশিং প্ল্যান্টসহ যেসব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কারখানা বুড়িগঙ্গা দূষণের জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।




