sliderস্থানিয়

বর্ষায় গবাদিপশুদের যেসব যত্ন ও সর্তকতা জরুরী

মোঃ আব্দুর রব মনসুর, সিরাজগন্জ প্রতিনিধি: বর্ষাকালে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গবাদিপশু ও পোল্ট্রিতে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এ সময় প্রাণিসম্পদের সুরক্ষায় খামারিদের বাড়তি সতর্কতা ও পরিচর্যার আহ্বান জানিয়েছেন কাজিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ দিদারুল আহসান। তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে পোল্ট্রি, গরু, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য প্রাণির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এজন্য খামারে বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করা, নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে করা, সময়মতো টিকা প্রদান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খামারে প্রবেশের আগে খামারকর্মীদের জীবাণুমুক্ত জুতা ও অ্যাপ্রোন ব্যবহার করতে হবে। কম বয়সী প্রাণির প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। মৃত মুরগি ও বিষ্ঠা খামার থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে মাটিচাপা দিতে হবে এবং পোল্ট্রি শেডের মেঝে নিয়মিত কস্টিক সোডার দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

বর্ষাকালে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে পোল্ট্রি খাদ্য জমাট বাঁধার প্রবণতা থাকে। তাই খাদ্য নিয়মিত রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আফলাটক্সিনের ঝুঁকি কমাতে উন্নতমানের ও শুকনো খাদ্য ব্যবহার এবং খাদ্যতালিকায় সূর্যমুখীর খৈল সয়াবিন মিল মেইজ গ্লুটেন মিল সরিষার খৈল ও চালের কুঁড়া অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গবাদিপশুর জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, দূষিত পানি পান করালে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ক্ষুরা রোগ বাদলা তড়কা ও গলাফোলা রোগের প্রতিষেধক টিকা যথাসময়ে প্রদান করতে হবে।

তিনি আরও জানান, বর্ষায় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াকে যতটা সম্ভব উঁচু ও শুকনো স্থানে রাখতে হবে। গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় রাস্তার পাশ, পুকুরপাড় ও পতিত জমিতে ডালজাতীয় গোখাদ্য ফসল চাষেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গর্ভবতী গাভী ও বাছুরের বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাছুরের পানিশূন্যতা রোধে নিয়মিত দুধ বা মিল্ক রিপ্লেসারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

ডাঃ মোঃ দিদারুল আহসান বলেন, “বর্ষাকালে সামান্য অসতর্কতার কারণে খামারে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই কোনো প্রাণি অসুস্থ হলে দেরি না করে নিকটস্থ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় বা ভেটেরিনারি হাসপাতালে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button