শিরোনাম

বকেয়া বিলের জন্য নবজাতকের দুধপান বন্ধ করে দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

বকেয়া বিলের জন্য ১০ দিন বয়সী নবজাতক শিশুকে আটকে রেখে তার দুধপান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেরানীগঞ্জের সাজেদা হাসপাতালের বিরুদ্ধে । খবর পেয়ে ৮ ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেলের হস্তক্ষেপে ওই নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার আইনে হাসপাতালটিকে এ জরিমানা করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেলের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শিশুটির পিতা দিনমজুর সুজন চট্রি জানান, তার নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ায় গত ১২ সেপ্টেম্বর সাজেদা হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় তাদের অনুমতি না নিয়ে এবং টাকা-পয়সার বিষয়ে কিছু না জানিয়ে শিশুটিকে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
পরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শিশুটিকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। এ সময় হাসপাতালের বিল বাবদ ৩১ হাজার টাকার রশিদ দেয়া হয় তাকে। কিন্তু হতদরিদ্র দিনমজুর সুজনের পক্ষে ওই টাকা পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে যায়। বিষয়টি তিনি হাসপাতালের ম্যানেজার শাহজালাল ফরাজিকে জানান। কিন্তু তাকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়, ‘টাকা ছাড়া তিনি সন্তানকে নিতে পারবেন না’।
সুজন চট্রি বলেন, বারবার বলার পরও তারা টাকা ছাড়া আমার বাচ্চাকে দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। এমনকি বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে দেয়নি। পরে একজনের পরামর্শে বিকালে উপজেলা পরিষদ কোনাখোলায় যাই। সেখানে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমার কাছে অমানবিক মনে হয়েছে। বিলের জন্য একটি শিশুকে আটকে রাখা হবে, দুধপান করতে দেয়া হবে না, এটা মেনে নেয়া যায় না। আমি সঙ্গে সঙ্গে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেই।
হাসপাতালের বিল বাবদ সুজনের কাছে থাকা সাড়ে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অভিযানের সময় হাসপাতালের ম্যানেজারসহ অনেকেই পালিয়ে যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জরিমানা ছাড়াও অপর এক রোগীর স্বামীর কাছ থেকে ১৬০০ টাকা অতিরিক্ত বিল নেয়ার অভিযোগ তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়। এ সময় অতিরিক্ত বিল নেয়ার বিষয়টি প্রমাণ হওয়ায় ১৬০০ টাকা ফেরত দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে সাজেদা হাসপাতালে গেলে ব্যবস্থাপককে পাওয়া যায়নি। অন্য কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।
তবে হাসপাতালের সাবেক ব্যবস্থাপক হারুনুর রশিদ বলেন, এনআইসিইউ-এর বিল নিয়ে কিছু একটা ঝামেলা হয়েছিল। আমি বিস্তারিত জানি না। ওই কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button