
তপন দাস, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর পশুর হাটগুলোতে সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে ক্রেতা ও খামারিদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়ের অভিযোগ উঠেছে । এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জেলার জলঢাকা ও সদর উপজেলার দুটি পশুর হাটে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সত্যতা মিললেও ইজারাদারদের যে পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে, তাকে নামমাত্র ও দায়সারা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতা ও খামারিরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) জেলার জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। অভিযানে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রমাণ পেয়ে ইজারাদারকে মাত্র ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ পশুর হাটে অভিযান চালান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ। সেখানেও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে ইজারাদারকে ২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কোরবানির এই ভরা মৌসুমে প্রতিটি হাটে প্রতিদিন যে পরিমাণ বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তার তুলনায় এই জরিমানার অঙ্ক একেবারেই নগণ্য।
রামগঞ্জ ও মীরগঞ্জ হাটের ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি হাটে গড়ে প্রায় এক হাজার পশু কেনাবেচা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি গরুর হাসিল ৬০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ইজারাদারেরা নিচ্ছেন ১ হাজার টাকা করে। অর্থাৎ প্রতিটি পশু বাবদ ক্রেতা-বিক্রেতার পকেট থেকে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
হিসাব অনুযায়ী, কেবল একটি হাট বারেই সাধারণ মানুষের পকেট থেকে ইজারাদারের সিন্ডিকেট অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। যেখানে এক একটি হাটে দিনে লাখ লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্য চলছে, সেখানে মাত্র ২-৩ হাজার টাকা জরিমানা ইজারাদারদের জন্য কোনো শাস্তি নাকি অনিয়ম চালিয়ে যাওয়ার এক প্রকার লাইসেন্স, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
হাটে আসা কয়েকজন খামারি ও ক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রশাসনের এই নামমাত্র জরিমানায় ইজারাদারের সিন্ডিকেট মোটেও দমে যাবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যাওয়ার পরপরই হাটে আবার পুরোনো রূপ ফিরে আসে। লোক দেখানো এই জরিমানা মূলত অনিয়মকে আরও প্রশ্রয় দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ইজারাদারকে তিন হাজার আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ মাত্র তিন হাজার- জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
নীলফামারী সদর ইউএনও’র মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিয়েও সারা পাওয়া যায় নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পশুর হাটে এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে প্রশাসনকে নামমাত্র জরিমানা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিয়মিত কঠোর নজরদারি, ইজারা বাতিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করা গেলে কোরবানির এই সময়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই উৎসব থামানো সম্ভব নয়।



