
নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দাবি করে বহিরাগতদের সাথে ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের সাথে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন, শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হাসান ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সাথে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। ঘটনার সময় সাব্বির হোসেন শান্তর গ্রুপ বহিরাগতদের এনে হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এবং সেক্রেটারির সালাম হলের রুমে ব্যাপক ভাঙচুর চলে। এছাড়াও, নোবিপ্রবির সালাম ও মালেক হলের বিভিন্ন রুম ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে, সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা একজোটে সাব্বির গ্রুপের অনুসারীদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া গড়ায় অডিটোরিয়াম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। সেখানে উভয়পক্ষ সংঘর্ষ ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের একাধিক নেতা দাবি করেন, বহিরাগতদের সাথে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদলের যে কোন এক নেতা বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে এসে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত থেকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
নোবিপ্রবি সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত ১৭ আগস্ট রাতে এবং মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংঘটিত ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে নোবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমানকে। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক ড.গোলাম রব্বানী বলেন, এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।




