নাজমুল চৌধুরী, হরিরামপুর প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পুলিশ পরিচয়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর গতিরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন নেওয়া এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা আলমগীর (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া কালভার্ট সংলগ্ন দানিস্তপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী তায়েফ (১৯) জানান, তিনি দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে উপজেলার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে দুজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের গতিরোধ করেন। এ সময় তারা মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যান এবং সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।
তায়েফের অভিযোগ, তাদের কাছে অবৈধ কোনো কিছু আছে কি না, তা তল্লাশির কথা বলে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। এতে বাধা দিলে সঙ্গে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরে পথচারীরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে ওই দুই ব্যক্তি মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে নগদ টাকা ফেরত না দিয়েই সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তায়েফ ও তার বন্ধুরা ওই দুই ব্যক্তির পিছু নেন। একপর্যায়ে হরুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তাদের দেখতে পান।
সেখানে উপজেলার কর্মকারকান্দি বয়ড়া গ্রামের আলমগীরের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে হরিরামপুর থানার এএসআইয়ের সহযোগী হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ সময় স্থানীয়রা আলমগীরকে আটক করেন। তার সঙ্গে থাকা হরিরামপুর থানার এএসআই সোহেল সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আলমগীরের কাছ থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।