দৌলতপুরে জাতীয় সমবায় দিবস পালন অনুষ্ঠানে ইউএনওকে বিদায়ী সম্মাননা স্মারক প্রদান

সোহেল রানা, মানিকগঞ্জ : প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম শনিবার সমবায় দিবস উদযাপিত হয়। “বঙ্গবন্ধুর দর্শন-সমবায়ে উন্নয়ন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় শনিবার সকাল ১২ টার দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ৫১ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন এক র্যালী ও আলোচনা সভা আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এ.কে.এম নাসির উদ্দিন(আবুল), উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাকসুদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর পি.এস মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান, দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ্্ আলম, সমবায় কর্মী ও সদস্য সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন সমবায়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাগেশ গড়ার যে অঙ্গীকার তার ধারাবাহিকতায় আজকের সমবায় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, “বঙ্গবন্ধুর দর্শন-সমবায়ে উন্নয়ন”। মানুষের ২৪ ঘন্টার ব্যাংক হচ্ছে সমবায় সমিতি। সমবায় হচ্ছে গরিব অসহায় মানুষের বেঁচে থাকার জন্য উন্নতি করার অবলম্বন বা হাতিয়ার। নিঃস্ব, রিক্ত মানুষকে কেউ ঋণ বা সহায়তা দেয় না। কারণ তাদেও জামানত রাখার মত দৃশ্যমান সম্পদ নেই। কিন্তু সমবায় গরিব অসহায় মানুষকে বিনা প্রশ্নে বিশ^াস করে ঋণ বা সহায়তা দেয়। কারণ তাদের দৃশ্যমান সম্পদ না থাকলেও রয়েছে অমূল্য সদৃশ্য সম্পদ। যা হচ্ছে সততা ও নিষ্ঠা। সমবায় এই সততা ও নিষ্ঠার মূল্য দেয়। সমবায় মূলত একটি অর্থনৈতিক আন্দোলন। স্বল্প বিত্ত, সাধারণ মানুষে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় মূলধন গঠন এবং উৎপাদন মূখী লাভজনক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে সমবায়ী সদস্যদের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও জীবন মানের উন্নয়ন সাধনই সমবায়ের উদ্দেশ্য। গণতান্ত্রীক ব্যবস্থাপনার ও লভ্যাংশের সুষম বন্টন সমবায়ের মূল ভিত্তি। দৌলতপুর উপজেলায় সমবায় পরিবারে প্রায় ৫ হাজার সদস্য রয়েছে। যারা বিভিন্ন সমবায় সমিতির আওতাভ’কত থেকে নিজেদেরকে আত্ম-সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে। সমিতির লাভের উপর অডিট সেচ,সি,ড্ফি আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ বছর প্রায় ৫২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। অত্র উপজেলার বিভাগীয় প্রাথমিক সমিতির শেয়ার ও সঞ্চয় আমানতের পরিমান ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। উক্ত টাকা সমিতির নিজস্ব মূলধন। উক্তা টাকা হতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা সমবায় সদস্যদের মাঝে স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ করা হয়। যার ফলে সমবায়ীগণ আর্থিক সাবলম্বি হচ্ছে। এতে করে এনজিও বা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে সদস্যদের ঋণের জন্য যেতে হচ্ছে না। এ সময় বক্তারা আরো বলেন, উপজেলার সকল সমবায়ী আত্ম-নির্ভরশীল হয়ে উঠুক এমন প্রত্যাশা সকলের নিকট।




