
শিবগঞ্জ( চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে জোরদার করা হয়েছে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। এ লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) ও মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধীন সব সীমান্ত তল্লাশি চৌকিতে (বিওপি) অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং রাতের অন্ধকারেও নজরদারি নিশ্চিত করতে নাইট ভিশন ক্যামেরাসহ আধুনিক পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
শনিবার দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে নিয়ে যৌথ টহল পরিচালনা করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রমও চালানো হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তে পুশইনের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সীমান্ত অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অধীন ১৭টি বিওপিতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্যরাও টহলে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং নাইট ভিশন ক্যামেরা ব্যবহার করে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সারা দেশের ন্যায় মহানন্দা ব্যাটালিয়নও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, জনবল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার, নাইট ভিশন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। বিজিবির এই বাড়তি তৎপরতায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।



