sliderস্থানিয়

রংপুরে ১০ দিনজুড়ে আংশিক লোডশেডিংয়ের শঙ্কা, জনদুর্ভোগের আশঙ্কা

মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা: রংপুর অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)–এর আওতাধীন “পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংথেনিং (জিটুজি) প্রকল্প”-এর গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজের জন্য রংপুর-কুড়িগ্রাম, রংপুর-লালমনিরহাট ও রংপুর-তারাগঞ্জ ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনে পর্যায়ক্রমে শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)-এর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় আংশিক লোডশেডিং হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি সীমিত পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পত্রে বলা হয়েছে, রংপুর ২৩০/১৩২ কেভি জিআইএস গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণকাজ নিরাপদ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার স্বার্থে আগামী ২৭ জুলাই সকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা ১৫ ঘণ্টা রংপুর-লালমনিরহাট ১৩২ কেভি এবং রংপুর-তারাগঞ্জ ১৩২ কেভি সার্কিট-১ সঞ্চালন লাইন বন্ধ থাকবে।

এছাড়া আগামী ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রংপুর-কুড়িগ্রাম ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনও শাটডাউনে থাকবে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং বিভিন্ন সময়ে আংশিক লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

নেসকোর আওতাধীন একাধিক ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পিজিসিবি জানিয়েছে, বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত হলে গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে।

এদিকে দীর্ঘ সময়ের শাটডাউন ও সম্ভাব্য লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেচনির্ভর কৃষি কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পিজিসিবি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিজ নিজ এলাকার গ্রাহক, সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আগাম অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি মাইকিংসহ প্রয়োজনীয় প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়ে জনগণকে সচেতন করার এবং শাটডাউনকালীন সময়ে সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রংপুর ২৩০/১৩২ কেভি জিআইএস গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সেই উন্নয়নের পথেই আপাতত কয়েক দিনের জন্য ভোগান্তির মুখোমুখি হতে পারেন রংপুর অঞ্চলের হাজারো গ্রাহক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button