শিক্ষা

ত্রিমুখী আন্দোলনে অচল হাবিপ্রবি

সংবাদদাতা, দিনাজপুর : কোটা সংস্কারসহ ত্রিমুখী আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনের কারণে কোন বিভাগে ক্লাশ বা পরীক্ষা হয়নি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ও কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে হাবিপ্রবিতে পতাকা মিছিল করেছে আন্দোলনকারীরা। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ১০টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ হাবিপ্রবি শাখা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মিছিলে কোটা আন্দোলনের নেতাদের উপর হামলা ও মামলার প্রতিবাদে শ্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মিছিলে কোটা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার প্রজ্ঞাপন দাবী করে ব্যানার বহন করে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের সনদ আলাদা করাসহ ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন করেন তারা। এসময় তারা হাবিপ্রবি অধিভুক্ত কলেজ শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সনদ আলাদাকরণ, হাবিপ্রবি’র এমবিএ ডিগ্রি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট অনুষদের পরিবর্তে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের নিজ নিজ বিভাগে প্রদান, হাবিপ্রবি ব্যতীত অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে হাবিপ্রবি’র নিয়মিত এমবিএতে ভর্তির সুযোগ না দেয়া এবং এমবিএ ভর্তির নীতিমালা সংস্কার করে অনতিবিলম্বে ২০১৮ সেশনের এমবিএ ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে টি ড্রপ আউট পদ্ধতি বাতিল করে ক্যারিঅন পদ্ধতি চালুর দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৯টি অনুষদের অধীনে বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন কোর্স কারিকুলামে প্রায় ২২টি ডিগ্রিপ্রদান কারা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ডিগ্রিপ্রদানের ক্ষেত্রে ক্রেডিট আওয়ার ও কোর্সের সংখ্যার অনেক তারতম্য রয়েছে।উদাহরণস্বরূপ কোন বিভাগে ১ সেমিস্টারে ১৬টি কোর্স রয়েছে একই সেমিস্টারে অন্য বিভাগ গুলোতে ৫টি অথবা ৮টি কোর্স রয়েছে। যেখানে সব ক্ষেত্রেই সেমিস্টার ড্রপের জন্য ৩টি বিষয়কে বিবেচনা করা হয়।এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং এটি কোন নিয়মকেই সিদ্ধ করে না। সেমিস্টার পদ্ধতির এমন নিয়ম অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।তাদের ৪ দফা দাবিগুলো হলো, ক্যারি অন সিস্টেম চালু করতে হবে। অর্থাৎ কোন শিক্ষার্থী অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা জনিত কারনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে অথবা ৩ এর অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হইলেও তাকে পরবর্তী সেমিস্টারে উর্ত্তীন করতে হবে এবং অকৃতকার্য বিষয় সমূহ শর্ট সেমিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উক্ত বিষয় সমূহ প্রতি বছরে শর্ট পরীক্ষার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।শর্ট সেমিস্টার বা মানোন্নয়নের জন্য সকল বিষয় উন্মুক্ত রাখতে হবে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে ইমপ্রুভ দিতে পারবে। ইমপ্রুভের রেজাল্ট বি প্লাস থেকে এ প্লাস উন্নীত করতে হবে।ফাইনাল পরীক্ষার সমাপ্তির অনাধিক ১ মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে।
সবমিলে ত্রিমূখী আন্দোলনে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কাযক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা না থাকায় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button