জুরাছড়ি উপজেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা

সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি: রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলাকে সম্পূর্ন ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সকালে পার্বত্য জেলা পরিষদ বিশ্রামাগারে উপজেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোঃ মানজারুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ মানজারুল মান্নান জুরাছড়ি উপজেলায় ভিক্ষাবৃত্তি নিমূল ও ভিক্ষুক পুনর্বাচনের অংশ হিসেবে ছয় জন ভিক্ষুকের মাঝে সেলাই মেশিন, গাভী, ছাগল, শুকুরসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা করার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া নিরাপদ ব্যবসা করার লক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকান ঘর ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সুদ মুক্ত ঋন, খাদ্য বান্ধব, ভিজিডি, ভিজিএফ কর্মসূচীতে অন্তঃভুক্ত করনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন।
মৈদং ইউনিয়নের শেফালীকা চাকমা(৪২)। ডান পা নেই শারিরীক প্রতিবন্ধী। শুধু সে নয়- বনযোগীছড়া ইউনিয়নের আনন্দ পাড়ার বামন চিত্তি ময় চাকমা। কোন রকমে মাধ্যমিক ঘন্ডি ফেরিয়ে (এসএসসি) পারিবারিক অভাবের কারণে কলেজের মূখ দেখা হয়নি তার। অভাবে কারণে ভিক্ষার জীবন বেছে নিতে হয়েছে তাকেও। সামাজি ও পারিবারি অভাবে কারণে একই ইউনিয়নের দুর্গামনি চাকমা, মায়া দেবী চাকমা, জুরাছড়ি ইউনিয়নের অন্ধ প্রতিবন্ধী কমল চন্দ্র চাকমা ও রেনুকা চাকমা। তাদের সাথে কথা হয় সোমবার পার্বত্য জেলা পরিষদ বিশ্রামাগারে প্রঙ্গনে। সবাই ভিক্ষা জীবন ছেড়ে আত্ম-সম্মান নিয়ে বাকী জীবন কাটিয়ে যেতে চাই।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যানগণ, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা, বনযোগীছড়া চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, মৈদং ইউপি চেয়ারম্যান সাধনা নন্দ চাকমা, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইউসুফ সিদ্দিকী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইমাম হোসেন, রিসোস সেন্টারের ইন্সেটেক্টর মোঃ মরশেদুল আলম, সমাজ সেবা কর্মকর্তা বিজয় গিরি চাকমাসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য ভিক্ষাবৃত্তি নিমূল ও ভিক্ষুক পুনর্বাচনের লক্ষে উপজেলার আগ্রহী কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ১দিনের বেতন এক লক্ষ চুয়াল্লিশ টাকা প্রাদন করেন।




