
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও পর্নোগ্রাফি মামলার অভিযুক্ত প্রধান আসামি মোঃ মনসুর আলম র্যাবের অভিযানে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানায় আসামির বিরুদ্ধে ১৯/০৫/২০২৬ তারিখ, ধারা- ৯(৪)(খ), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০২৫) তৎসহ ৮(১)/৮(২)/৮(৩)/৮(৪) ধারা, পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ মূলে ধর্ষণ চেষ্টা ও পর্ণোগ্রাফী মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৩১/১৩৭।
মামলার প্রধান আসামি মোঃ মনসুর আলমকে (৪০) গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে র্যাব-১৩-এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় র্যাব-১৩, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্প এবং র্যাব-১, সিপিএসসি-এর একটি যৌথ দল গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ভুবনের চালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনসুরকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর থানার একটি মামলার এজাহার ভুক্ত প্রধান আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী ওই ব্যক্তির আত্মীয়। আত্মীয়তার সুবাদে মনসুর তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় মনসুর একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে দেখা করতে বাধ্য করেন। পরে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় বাধা দিলে ভুক্তভোগীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর অজান্তে তার কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অনৈতিক দাবি জানান। দাবি না মানায় মনসুর ওই ছবি ও ভিডিও ভুক্তভোগীর স্বামীসহ কয়েকজনের মুঠোফোনে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় গত ১৯ মে ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের পর আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে এবং সামাজিক অপরাধ দমনে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




