শিরোনাম

জামালপুরে বন্যার অবনতি : শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু

সংবাদদাতা (জামালপুর) : জামালপুর জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে । বন্যার প্রভাবে শনিবার দুই শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন পানিতে ডুবে, একজন সাপের কামড়ে এবং আরেকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২০ জুলাই) দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পৃথক পৃথক ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, দুপুরে জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার কুশলনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে খেলার সময় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় রাহাদ মিয়া (৯) নামে এক শিশু। সে দক্ষিণ কুশলনগরের সামের আলীর ছেলে।
দুপুরে সরিষাবাড়ী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে ইরান (০৩) নামে এক শিশু মারা গেছে। সে সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার কামারাবাদ গ্রামের সাখাওয়াতের ছেলে।
বিকেলে জামালপুর সদরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায় সিফাত (১৬) নামে সাঁতার না জানা এক কিশোর। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সে সদরের কেন্দুয়া ইউনিয়নের তিতপল্লা গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে।
বকশীগঞ্জে নিজের ঘরের ভেতরে বন্যার পানিতে ভেসে আসা সাপের কামড়ে মারা যান রাজা বাদশা (৫৫) নামে এক কৃষক। তিনি উপজেলা সদর ইউনিয়নের ঝালরচর গ্রামের চান্দু শেখের ছেলে। স্থানীয়রা বলছেন, শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজা সাপের কামড়ের কবলে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জেলাটির মেলান্দহ উপজেলায় বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে নাজমা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর। তিনি মেলান্দহ সদরের রেখিরপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের স্ত্রী।
এদিকে, রাতে বকশীগঞ্জের বগারচর ইউনিয়ন থেকে আকলিমা (৩২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বগারচর গ্রামের ভ্যানচালক আনোয়ারের স্ত্রী।
বকশীগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) বলেন, প্রাথমিকভাবে এটাকে আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। অন্যদিকে,বন্যা দুর্গতদের মাঝে সরকারি ত্রাণ তৎপরতা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন বানভাসীরা। কোথাও ত্রাণের খবর পেলে বানভাসী মানুষ সেখানে হুমড়ী খেয়ে পরছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারিভাবে ৮৫০ মেট্রিক টন চাল, ১৪ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা ও ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button