উপমহাদেশশিরোনাম

জাতীয়তাবাদের নামে কাশ্মীরে লাখো মানুষের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে: প্রিয়াঙ্কা

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের মহাসচিব প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, জাতীয়তাবাদের নামে লাখো মানুষের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তিনি আজ (রোববার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ওই মন্তব্য করেন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারা অপসারণের পরে সেরাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শেষমেশ আর কতদিন ধরে এসব চলবে?
গতকাল (শনিবার) কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় এক প্রতিনিধিদল শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখতে না দিয়ে দিল্লিতে ফেরত পাঠানো হয়।
রাহুল গান্ধীরা শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফেরার সময় বিমানে এক কাশ্মীরি নারী রাহুল গান্ধীকে তাঁদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে কেঁদে ফেলেন। এ সংক্রান্ত এক ভিডিও শেয়ার করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আজ বলেন, উনি (কাশ্মীরি নারী) হলেন সেই লাখো লোকের মধ্যে একজন যাদেরকে জাতীয়তাবাদের নামে চুপ করানো ও চূর্ণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরে এখন যেভাবে গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে খর্ব করা হচ্ছে, তার চেয়ে বড় রাজনীতি আর বড় জাতীয়তাবিরোধী কার্যকলাপ আর কিছু হতে পারে না।’
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক সাংবাদিকের ভিডিও শেয়ার করেন যাতে দেখা যায় বিমানের মধ্যে এক নারী রাহুল গান্ধীকে বলেন, বর্তমান সময়ে কাশ্মীরের মানুষজন খুব দুর্ভোগে রয়েছেন। ওই নারী রাহুল গান্ধীকে বলেন, ছোট ছোট শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। ওরা একে অন্যকে খুঁজতে বাসা থেকে বেরোলে তাঁদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমার এক ভাই হার্টের রোগী। তিনি নিজ শিশুকে খুঁজতে বেরিয়েছিলেন। তাঁকে আটক করা হয়েছে এবং ১০ দিন ধরে তাঁর খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না যে কোথায় আছে কীভাবে আছে। আমরা সবদিক দিয়ে খুব দুর্ভোগে রয়েছি।
শ্রীনগর থেকে ফিরে এদিন সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি ভালো নয়। আমরা সেখানকার পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে বিমানবন্দরের বাইরে বেরোনোর অনুমতি দেয়া হয়নি। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে গণমাধ্যমের সদস্যরা ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, এ থেকে স্পষ্ট যে জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।
পার্সটুডে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button