চৌগাছায় করোনায় দম্পতির মৃত্যু, এলাকা জুড়ে আতঙ্ক
যশোরের চৌগাছায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওই দম্পতি উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার লাকি।
জানা যায়, ১২ জুলাই যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা লক্ষণে মৃতবরণ করেন ওই পুরুষ। ১৬ জুলাই তার ছেলের মোবাইল ফোনে এসএমএস আসে তার বাবা করোনা পজিটিভ ছিলেন। ওই দিনই চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালের পক্ষ থেকে ওই পরিবারের অন্য পাঁচ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা দেয়ার পর রাতেই নিহতের স্ত্রী (৬৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতুবরণ করেন।
নিহতের ছেলে জানান, ১১ জুলাই চৌগাছায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান তার বাবাকে। তখন বাবার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, কিছু সময় অক্সিজেন দেয়ার পর তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন তারা। ১২ জুলাই সেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর দুদিন পর তাকে মোবাইল ফোনে জানানো হয় তার বাবা করোনা পজিটিভ ছিলেন।
১৬ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তার পরিবারের বাকী পাঁচজনের নমুনা নেয়া হয়। দুপুরে নমুনা নেয়া হয় এবং রাতে তার মা মারা যান। এদিকে বাবার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর করোনাভাইরাসের উপসর্গে মায়ের মৃত্যু হওয়ায় গ্রামের কোনো ব্যক্তি লাশ দেখতেও আসেননি। লাশ নিয়ে সারা রাত পরিবারের সদস্যরা বসে ছিলেন। মাত্র চার দিন আগে বাবার মৃত্যু করোনায় হওয়ায় পরিবারের সদস্যরাও লাশের পাশে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না।
শুক্রবার সকালে চৌগাছা পৌর মেয়র নুর উদ্দীন-আল মামুন হিমেলের নেতৃত্বে অগ্রযাত্রা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা আসেন। তার বোন মায়ের লাশের শেষ গোসল করায়। এর পর অগ্রযাত্রা সংগঠনের সদস্যরা জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মাকে দাফন করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক সদস্য বলেন, আতংকের কারণে আমরা যাওয়ার আগ পর্যন্ত গ্রামের একজনও লাশের পাশে আসেনি। এমনকি পাশের বাড়ির লোকও আসেনি লাশ দেখতে। গ্রামের কেউ কবর খুঁড়তেও চাচ্ছিলেন না। পরে গ্রামের মসজিদের ইমামের অনুরোধে কবর খোড়া হয়। মৃতের এক মেয়ে মায়ের শেষ গোসল দেন। আমরা জানাযা পড়তে দাড়ালে গ্রামের কয়েকজন এসে অংশ নেন।
এদিকে এ পরিবারকে প্রায় একঘরে করে রেখেছে। এমনকি গ্রামেই সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের বাড়ি হলেও তাকেও দেখা যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বলেন, গ্রামের মানুষের এমন আচরণ দুঃখজনক। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর ওই পরিবারের অন্য পাঁচজনের নমুনা নেয়া হয়। এরপর রাতে ওই নারী মারা যাওয়ার সংবাদ পাই। যিনি গোসল করিয়েছেন তার নমুনা নেয়া হবে, ও যারা লাশের কবর দিয়েছেন তাদের সকলের জন্য পিপিইর ব্যবস্থা করা হয়েছে।




