চিলিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন জার্মানি

চিলিকে হারিয়ে প্রথমবার কনফেডারেশনস কাপ চ্যাম্পিয়ন হলো জার্মানি। রোববার ফাইনালে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে চিলিকে। একঝাঁক তারকাকে বিশ্রাম দিয়ে জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক কোচ জোয়াকিম লো। তার বুদ্ধিদীপ্ত প্রশিক্ষণই এই জার্মান দলের মূল চালিকাশক্তি। পাশাপাশি প্রশংসা করতেই হবে টিমো ওয়ার্নার-লার্স স্টিন্ডলদের লড়াকু মানসিকতার। পরিকল্পিত ফুটবল খেলেই তারা ফাইনালে বশ মানায় গত দু’বারের কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচের প্রারম্ভিক পর্ব থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে চিলি। পঞ্চম মিনিটে ভিদালের শট রুখে দেন জার্মান গোলরক্ষক আন্দ্রে টার স্টেগেন। এই পর্বে জোয়াকিম লো’র দল রক্ষণ সামলাতেই বেশি ব্যস্ত ছিল। ১৯ মিনিটে ভিদালের শট টার স্টেগেন আংশিক প্রতিহত করার পর বল পেয়েও তা গোলে ঠেলতে ব্যর্থ হন অ্যালেক্সি স্যাঞ্চেজ। পরের মিনিটেই খেলার গতির বিরুদ্ধে গোল তুলে নেয় জার্মানি। ডিফেন্ডার মার্সেলো ডিয়াজের অমার্জনীয় ভুলে বল কেড়ে নেন টিমো ওয়ার্নার। তাঁকে রুখতে ততক্ষণে গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্র্যাভো। বুদ্ধিমান ওয়ার্নার বল ঠেলে দেন ফাঁকায় দাঁড়ানো লার্স স্টিন্ডলের দিকে। হালকা পুশে জালে বল জড়ানো ছাড়া অন্য কিছু করেননি তিনি (১-০)। গোল হজমের পর তা শোধ দেওয়ার চেষ্টা করে চিলি। ২৪ মিনিটে ডানদিক থেকে ইসলার মাইনাসে ঠিকমতো পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন আরাঙ্গুইজ। এরপর রুডির ডিফেন্স চেরা থ্রু ধরে নেওয়া গোরেটস্কার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে দুরন্ত কাউন্টার অ্যাটাকে ব্যবধান বাড়াতে পারত জার্মানি। ৪০ মিনিটে ড্র্যাক্সলারের শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। বিরতির অব্যবহিত আগে গঞ্জালো জারার ভুলে বল পেয়েও ব্র্যাভোকে হার মানাতে পারেননি গোরেটস্কা। উল্লেখ্য, প্রথমার্ধে জার্মানির বল পজেশন ছিল ৩৭ শতাংশ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দুই দল গা-জোয়ারি ফুটবল খেলে। ৫৬ মিনিটে ড্র্যাক্সলারের শট জারার পায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপরেই ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়ে হলুদ কার্ড দেখেন কিমিচ ও ভিদাল। উল্লেখ্য, দু’জনেই বায়ার্ন মিউনিখের ফুটবলার। ৬৩ মিনিটে কনুই দিয়ে ওয়ার্নারকে মারেন জারা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহযোগিতা নিয়ে চিলির ডিফেন্ডারটিকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ৭০ মিনিটের পর জার্মান রক্ষণে ধেয়ে আসতে থাকে একের পর এক চিলির আক্রমণ। ৭২ মিনিটে স্যাঞ্চেজের পাস থেকে নেওয়া ভার্গাসের শট ব্লক করেন রুডি। মিনিট দুয়েক পরে ৭৪ মিনিটে ভার্গাসের শট সোজাসুজি জমা পড়ে টার স্টেগেনের হাতে। গোলের জন্য ৮১ মিনিটে দু’টি চেঞ্জ নেয় চিলি। ৮৪ মিনিটে দিনের সহজতম সুযোগটি নষ্ট করেন পরিবর্ত সাগা। শেষ পর্বে অ্যালেক্সি স্যাঞ্চেজের ফ্রি-কিক রুখে দিয়ে দুর্গ অক্ষত রাখেন আন্দ্রে টার স্টেগেন।



