অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

চালু হল দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা

বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা বন্দরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সোমবার শুরু হয়েছে।
বাড়তি সুবিধা আর নানা প্রণোদনা দিয়ে এ সোনালি স্বপ্নের দ্বার উন্মুক্ত হল। পদ্মা সেতুর জন্য ৫৩ হাজার টন পাথর নিয়ে প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ফরচুন বার্ড রামনাবাদ চ্যানেলের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছেছে । সড়ক ও রেলপথ ছাড়াই মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে নৌপথে পণ্য পরিবহনের মধ্য দিয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দরের কর্যক্রম শুরু হলো।
বন্দরটি চালুর মধ্য দিয়ে নিরাপদ বাল্কপণ্য নদীপথে পরিবহনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে এ বন্দরের কার্যক্রম শুরুর খবরে দক্ষিণ উপকূলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে । এ অঞ্চলের মানুষের কাছে দিনটি ঐতিহাসিক ক্ষণ হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সাথে সংগতি রেখে দেশের সমুদ্রবন্দর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে দেশের এ তৃতীয় সমৃদ্র বন্দর নির্মিত হয়েছে । দেশের বিদ্যমান দুটি বন্দরের পাশাপাশি তৃতীয় এ সমুদ্র বন্দর নির্মান করে বিশেষ একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী ও চতুর্মুখী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
দশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা নিয়ে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পায়রা বন্দর আইন ২০১৩ সংসদে পাস হয় । একই বছর ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্দরের ভিত্তি ফলক উন্মোচন করেন।
বর্তমানে পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকায় বিরামহীন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চলছে। ১৬ একর জায়গায় জেটি ও অত্যাধুনিক কনটেইনার ক্যারিয়ার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক স্টেশন, নিরাপত্তা ভবন এবং বন্দর পন্টুনে সরাসরি ট্রাক বা কনটেইনার লরি প্রবেশের জন্য অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডও নিয়োগ দেয়া হয়েছে । রামনাবাদ চ্যানেলের লালুয়া ও ধুলাসার থেকে প্রায় সাত হাজার একর জমি আধিগ্রহণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
বিমানবন্দর গড়ে তোলাসহ নৌবাহিনীর ঘাঁটি বিএনএস শের-এ-বাংলা এ এলাকায় থাকবে । পর্যায়ক্রমে এটি গভীর সমুদ্রবন্দরের রূপ নিয়ে চার লেনের মহাসড়ক ও ডাবল গেজ রেললাইনে যুক্ত হয়ে পরিপূর্ণভাবে ২০২৩ সালে চালু হবে।
পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ফলে অজানা, অচেনা এ জনপদ এখন কর্মমুখর। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক কর্মকান্ডে মানুষ সারা বছর সম্পৃক্ত থাকবে।
এদিকে পায়রা বন্দর থেকে প্রথমবারে পণ্য খালাস করে পরিবহনের সুযোগ পেয়ে গর্বিত ও খুশী লাইটারেজ জাহাজের এমভি ফরচুন বার্ড এর কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না এমন বড় জাহাজ জোয়ার-ভাটার অপেক্ষা না করে সারা বছরই পায়রা বন্দরে ভিড়তে পারবে । নেপাল ও ভুটান খুব সহজেই এ বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। এই এমনকি এ বন্দর বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর বিসিআইএমের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে সরকার আশা করছে। বাসস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button