
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবগঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সভায় চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবল সংকট নিরসন,দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ, রোগীদের হয়রানি প্রতিরোধ, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত সরবরাহ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি।
সভা শেষে মাননীয় মন্ত্রী ও সহ-সভাপতি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ এবং চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা রোগীদের খোঁজখবর নেন, চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং রোগীবান্ধব, মানবিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহও তুলে ধরেন।
রংপুর মেডিকেলের এই ইতিবাচক উদ্যোগ যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে, ঠিক তখনই কুড়িগ্রাম জেলার লাখো মানুষের হৃদয় থেকে ভেসে উঠছে এক বেদনাভরা প্রশ্ন—”আমাদের হাসপাতাল কবে পাবে এমন পরিবর্তন?”
দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল নানা সংকট, অব্যবস্থাপনা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তীব্র সংকট রয়েছে। আধুনিক অপারেশন যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং উন্নত চিকিৎসা সুবিধার অভাবে প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে বাধ্য হয়ে রংপুর কিংবা দেশের অন্যান্য জেলায় ছুটতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, অন্যদিকে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় অনেক রোগীর জীবনও চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়া, দীর্ঘসূত্রতা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে। যে হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিল অসহায় মানুষের শেষ ভরসার ঠিকানা, সেটিই আজ অনেকের কাছে ভোগান্তি, হতাশা ও অসহায়ত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
কুড়িগ্রামবাসীর দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট—রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালেও জরুরি ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, অপারেশন থিয়েটারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং রোগীবান্ধব চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
জেলার সচেতন মহলের প্রত্যাশা, রংপুর মেডিকেলে যেভাবে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, একই আন্তরিকতা ও গুরুত্ব দিয়ে কুড়িগ্রাম হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোরও দ্রুত সমাধান করা হবে। কারণ উন্নত চিকিৎসা কোনো বিলাসিতা নয়,এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
কুড়িগ্রামের মানুষের আর্তনাদ আজ একটাই—উন্নত চিকিৎসার অভাবে আর কোনো জীবন ঝরে পড়ুক, তা তারা দেখতে চান না। তাদের বিনীত কিন্তু দৃঢ় আবেদন, মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপির সদয় হস্তক্ষেপে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালকে একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ও জনবান্ধব চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক।
কুড়িগ্রামবাসীর কণ্ঠে আজ একটাই আহ্বান “আমরা উন্নত চিকিৎসা চাই, মানবিক সেবা চাই। আমাদের হাসপাতালকে বাঁচান, আমাদের জীবনকে নিরাপদ করুন। রংপুরের মতো কুড়িগ্রামেও স্বাস্থ্যসেবার নতুন ভোরের সূচনা হোক।”



