‘করোনার সুযোগ নিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণের কলাকৌশল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে আক্রান্তদের ওপর নজরদারিতে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ ও নিপীড়নের কলাকৌশল প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, এমনটাই বলেছেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা এডওয়ার্ড স্নোডেন।
মানুষের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট নজরদারি নিয়ে তথ্য ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় চলে আসা সিআইএ’র এই সাবেক সদস্য নিউইয়র্ক ভিত্তিক ভাইস টিভি চ্যানেলকে একটি সাক্ষাৎকার দেন।
করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে স্নোডেন বলেন, ‘বিশ্বের জনস্বাস্থ্য সংকট থেকে আসলে এই মহামারি প্রত্যাশিতই ছিল, যেখানে একে অপরের শীর্ষে থাকা জনবহুল এবং দূষিত শহরগুলোতে আমাদের বসবাস। প্রত্যেক বিশেষজ্ঞ এবং গবেষক জানতেন এটি আসবে। এমনকি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও, শুরু থেকেই সেটি আমি বলতে পারি, কারণ তারা পরিকল্পিত মহামারি নিয়ে প্রতিবেদন পড়তে অভ্যস্ত।’
স্বৈরাচারী শাসকেরা কি গণতান্ত্রিক দেশগুলো থেকে করোনা পরিস্থিতি ভালো মোকাবিলা করতে পারছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি সেরকমটা ভাবি না। মানে এ নিয়ে বিতর্ক আছে, চীন যেটা পারছে সেটা যুক্তরাষ্ট্র করতে পারছে না। তার মানে এই নয় যে, স্বৈরাচারী দেশগুলো যা করছে, সেটিই অধিক কার্যকরী কিছু।’
আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে চীনের দেয়া তথ্যতেও সন্দিহান সাবেক এই মার্কিন গোয়েন্দা। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন মনে করছি দেশটিতে স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সতর্কতা দরকার তখন পশ্চিমা সাংবাদিকদের বহিষ্কার করছে সেটি।’
করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে গিয়ে নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মত দেন তিনি।
স্নোডেন বলেন, ‘যখন কর্তৃত্ববাদ ছড়িয়ে পড়ে সেই সঙ্গে জরুরি আইনের বলবৎ দীর্ঘায়িত হয় আমরা তখন আমাদের অধিকার বিসর্জন দিই, গ্রেপ্তার এড়াতে আমাদের যে সক্ষমতাও সেটি ত্যাগ করতে হয় সেই সঙ্গে বিশ্বও আমাদের জন্য সংকুচিত হয়। আমরা কি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করেন, করোনাভাইরাস যখন প্রথম ওয়েভ, দ্বিতীয় ওয়েভ এমনকি ষোলোতম ওয়েভ চলে যাবে সেসব আমরা ভুলে যাব না? তখন আমাদের সব সামর্থ্য তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে না? করোনার কারণে সংগৃহীত সব ডেটাবেইস তখন সংরক্ষিত হবে না? কীভাবে তা হচ্ছে সেটি ব্যাপার নয়, তবে নিপীড়নের কলাকৌশল তৈরি করছে তারা।’




