ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
প্রস্তাবিত আইনে অধিকাংশ গর্ভপাত অপরাধ হিসেব চিহ্নিত হবে এবং প্রেসিডেন্টকে অবমাননাও অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ওই বিলটি পাস হতে দেরি হলেও বিক্ষোভকারীরা মনে করছেন শেষ পর্যন্ত সংসদে বিলটির অনুমোদন হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে বিবিসি এমন খবর প্রকাশ করেছে।
২৪ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার সংসদে এই বিলটির বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো শুক্রবার পর্যন্ত ভোট স্থগিত করেন। তিনি বলেছেন, ‘নতুন আইন বাস্তবায়নের আগে আরো বিবেচনা প্রয়োজন।’

ওই দিন ইন্দোনেশিয়ার অনেক শহরের রাস্তায় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নেমে আসেন, যাদের অনেকেই ছাত্র। মূল বিক্ষোভ হয় রাজধানী জাকার্তায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সংসদের স্পিকার বামবাং সোয়েসাতেয়ো’র সাথে দেখা করে তাদের দাবির কথা জানান।
বিক্ষোভরত এক নারীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা দেখা যায়, ‘আমার দেহ কোনো সরকারের সম্পত্তি নয়।’
সুলাওয়েসি দ্বীপের ইয়োগিয়াকার্তা ও মাকাসা সহ আরো কয়েকটি জায়গায় দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষোভ চলেছে।

পশ্চিম জাভা’র ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর বয়সী ছাত্র ফুয়াদ ওয়াহইউদিন বলেন, ‘দূর্নীতিবিরোধী সংস্থা দূর্নীতির বিরুদ্ধে নয় বরং দূর্নীতিবাজদের পক্ষে। এই নতুন আইনের বিরোধিতা করতে সংসদে যাবো আমরা।’
বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়লে পুলিশ তাদের দিকে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে। জাকার্তায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিলম্ব হলেও সংসদে এই বিলটি পাস হতে পারে বলে অনেক ইন্দোনেশিয়ান আশঙ্কা করছেন। এর আগে দেশটির দূর্নীতি দমন সংস্থা ‘করাপশন ইর্যাডিকেশন কমিশনের’ ক্ষমতা সীমিত করে আইন পাস করার ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে দেশটির মানুষের মধ্যে।

প্রস্তাবিত ওই আইনে যা আছে
১. বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শাস্তি হিসেবে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
২. বিয়ে ছাড়া একসাথে বসবাসের ক্ষেত্রে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি।
৩. প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ধর্ম, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতের মত প্রতীক অবমাননা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
৪. চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা ধর্ষণের পরিস্থিতি না হলে গর্ভপাতের শাস্তি সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড।




