আন্তর্জাতিক সংবাদ

আমি তোমাকে সত্যিই পছন্দ করি এবং চাই সম্পর্কটি গড়ে উঠুক’

কাজল ঘোষ : ডগ পরামর্শ দিলো যে, তার এখানেই প্রথম দেখাটা হোক। আমি তাকে বললাম, সে আমাকে যেন নিয়ে যায়। ‘ঠিক আছে, কিন্তু আমি তোমাকে বলতে চাই যে, আমি কিন্তু ভালো চালক নই।’ সে বললো। ত্বরিত আমিও তাকে বিষয়টি জানাবার জন্য ধন্যবাদ জানালাম। এখানে কোনো ভণিতা বা অভিনয়ের বিষয় ছিল না। কোনো বিরক্তি বা চাপিয়ে দেয়ার বিষয়ও ছিল না। তার দিক থেকে এটাই বেশি আরামদায়ক মনে হয়েছিল। তাকে দ্রুতই পছন্দ করার এটাও বড় একটি কারণ ছিল।
এক সকালে আমাদের প্রথম সাক্ষাতের পর ডগ তার সামনের ক’মাসের ফাঁকা দিনগুলোর তারিখ আমাকে মেইল করে জানায়। আমি লুকোচুরি খেলায় অভ্যস্ত ছিলাম না। আমি মেইলটি পড়ি। আমি তোমাকে সত্যিই খুব পছন্দ করি এবং চাই সম্পর্কটি গড়ে উঠুক। সত্যি বলতে সে এই শনিবার আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিল। কিন্তু আমার লম্বা ব্যস্ততা ছিল গার্লস উইকেন্ড নিয়ে।
এটা কোনো সমস্যা না, সে আমাকে জানায়। আমি চলে আসতে পারি তোমার কাছে এবং একটা কিছু হালকা স্ন্যাকস নিতে পারি অল্প সময়ের মধ্যেই। আমি তার সেই আগ্রহকে প্রশসংসা করলেও তাকে ব্যখ্যা করলাম তুমি যেমনটি গার্লস উইকেন্ড ভাবছ এটি আসলে তেমন নয়। এ সপ্তাহের পরিবর্তে পরবর্তী সপ্তাহে আমরা দ্বিতীয় ডেটে যাওয়ার মনস্থির করি।
তৃতীয় ডেটে ডগ সিদ্ধান্ত নেয় একটি বড় কোনো উপহার দেবে। সে স্যাক্রামেন্টোতে পৌঁছায় আমার সঙ্গে ডিনার করার জন্য। এরপর থেকেই আমরা বুঝতে পারি যে, আমরা বিশেষ কিছু। আমরা ছয় মাসের জন্য একে অন্যকে কথা দেই আমরা এই সময়টাকে নিজেদের দেখবো। সময় শেষে আমরা আমাদের সম্পর্কের মূল্যায়ন করবো। স্কুলে ঝড়ে পড়া কমানো নিয়ে একটি বক্তৃতা অনুষ্ঠানে ডগকে আমি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাই। সেখানের অনেকেই হয়তো ভেবে থাকবেন আমরা একটি রোমান্টিক জুটি। আমার টিমের মধ্যে ডগকে নিয়ে কানাকানি চলছিল। তারা তার কথা শুনেছে কিন্তু কখনও দেখিনি। দেখার পরবর্তী সময়ে তারা বলতে থাকলো এ ডি (আফটার ডগ)। ডগ আমাকে যেভাবে হাসাতো তারা সেটি পছন্দ করতো। আমি নিজেও করতাম।
ডগ আগে বিয়ে করেছে এবং তার দু’টি সন্তান আছে। ওদের ডাকনাম কোল এবং এলা। পুরো নাম জন কোলট্রেন এবং এলা ফিৎজেরাল্ড। এলা মিডল স্কুল এবং কোল হাইস্কুলে পড়ছে। ডগ তার প্রথম স্ত্রী কের্স্টিনের বিষয়ে আমাকে জানায়। আমার তীব্রমাত্রায় শ্রদ্ধা ছিল কের্স্টিনের প্রতি যা এখনও আছে। ডগ প্রথমে যখন তার বাচ্চাদের ব্যাপারে বলেছিল আমার মনে হয়েছিল কের্স্টিন ছিল একজন ভয়াবহ মা। তবে পরবর্তী কয়েক মাসে তার সঙ্গে যখন কথা হতে শুরু করলো আমরা বন্ধু হয়ে গেলাম। আমরা মাঝে-মধ্যে মজা করতাম যে, আমাদের আধুনিক পরিবার ব্যবস্থা আসলে খুব কমই কার্যকরী।
আমাদের দ্বিতীয় ডেটে ডগ চেয়েছিল তার সন্তান এলা এবং কোলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে আমাকে এবং আমিও তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য উদগ্রিব ছিলাম। কিন্তু আমি জানি বিয়েতে ভাঙন হয়ে যাওয়া পরিবারের সন্তানদের জন্য তার পিতা-মাতার সম্পর্ক মেনে নেয়া কতোটা কষ্টের। সুতরাং আমি একটু ধীরে এগুতে চাইছিলাম। ডগ যখনই স্পিকার ফোনে তার সন্তানদের সঙ্গে আমাকে কথা বলিয়ে দিত তখন আমি চাইতাম ডগ এবং আমার মধ্যে স্থায়ী কিছু হওয়ার পরেই কোল এবং এলার সঙ্গে আমি জড়াই।
তার সন্তানদের সঙ্গে কবে আমার দেখা হওয়া উচিত প্রায়ই আমাদের কথা হতো। আমরা এজন্য প্রায় দু’ মাস অপেক্ষা করলাম। আমাদের বোঝাপড়া ভালো ছিল তাই দু’মাসে আমরা অনেক ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলাম। যখন ওই দেখা করার দিনটি এলো আমার মনে হচ্ছিল আমার হয়তো ডগের সঙ্গে কয়েক বছরের সম্পর্ক।
আমি সকালে ঘুম থেকেই উঠেই উত্তেজনা অনুভব করছিলাম। আমি ছিলাম অনেক ক্ষুধার্থ। ডগের ফটোগ্রাফ দেখে এবং তাদের গল্প শুনে বুঝতে পেরেছি কোল এবং এলা কতোটা দুর্দান্ত। তারা তার হৃদয়ে কতোটা স্থান করে নিয়েছে। অবশেষে আমি এই দু’জন অসাধারণ তরুণের সঙ্গে দেখা করছি। এটা ছিল একটি স্মরণীয় ঘটনা।
কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে,মানবজমিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button