শিরোনাম

সিংগাইরে মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ক্লাস না করেও বেতন দিতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

সিরাজুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মাধ্যমিক স্কুলগুলো মহামারি করোনার কারনে সারা বছর বন্ধ থাকলেও বছর শেষে শিক্ষার্থীরা বেতন দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে,উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৯ হাজার ১৪৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কোভিড-১৯ এর কারনে বছরের শুরুতে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো সিংগাইরেও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বছর শেষে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের শিখন ফল মুল্যায়নে অ্যাসাইনমেন্ট নেয়ার জন্য ফি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের অটোপাসের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠেছে ,এ ঘোষনার পর থেকেই বিভিন্ন স্কুল অ্যাসাইনমেন্টকে পুঁজি করে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বেতনাদি ও বিভিন্ন বকেয়া পাওনার নামে আদায় করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিনিয়ত চলছে বাগি¦তন্ডা। গত বৃহস্পতিবার ( ৫ নভেম্বর) অভিভাবকদের তোপের মুখে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম নজরুল ইসলাম তার অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে গা-ঢাকা দেন। পরে স্কুল পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন সংগ্রহ করে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্কুলে এ রকম ঘটনা ঘটেই চলছে। এ নিয়ে যে কোনো সময় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন স্থানীয় বিজ্ঞজনেরা।
উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়, চারিগ্রাম এসএ খান উচ্চ বিদ্যালয়, বায়রা উচ্চ বিদ্যালয়, গোলাইডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট করানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু বেতন ও টিউশন ফি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। অথচ বছরের শুরুতে মাত্র ২ মাস ক্লাস নিয়ে পুরো বছরের বেতন ও অন্যান্য ফিসহ মোটা অংকের অর্থ আদায় এক ধরনের জুলুম। তাদের অভিযোগ,উপজেলার অধিকাংশ লোক কৃষি নির্ভর। করোনাকালীন ও বন্যা পরিস্থিতির কারনে তাদের পরিবারগুলো এমনিতেই আর্থিক সংকটে। তার ওপর আবার বছর শেষে সন্তানদের বেতনের বোঝা । এ যেনো মরার ওপর খড়ার ঘাঁ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম নজরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে লাইন কেটে দেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সিংগাইর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আক্রাম হোসাইন বলেন, আমরা কোনো শিক্ষার্থীর ওপর চাপ সৃষ্টি না করে সরকারি ঘোষনা অনুযায়ী সমাঝোতার মাধ্যমে বেতন আদায় করছি।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সহকারি শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খাঁন বলেন, সরকারিভাবে বেতন আদায়ের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তবে স্কুল পরিচালনা করার জন্য শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিতে পারে কিন্তু চাপ সৃষ্টি করে নয়।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীদের শিখন ফল মূল্যায়ন করতে যে অ্যাসাইনমেন্ট নেয়া হচ্ছে সে জন্য কোনো ফি নেয়া যাবে না। আর টিউশন ফি আদায় করা নিয়ে শিগগিরই একটি নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button