বদরগঞ্জে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জে মাসুদা বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন- মাসুদার স্বামী আব্দুস সোবহান
(৩৭) ও দেবর শমসের আলী (৩৩)। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর শিবপুর দিঘীরপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিনই ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মারুফ আহম্মেদ। এঘটনায় মাসুদার বাবা মসুদার রহমান বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
মামলা সুত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর বাড়ির পাশে গর্ত খননকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ মাসুদার সঙ্গে তার জা বরাতি বেগমের ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এরই এক পর্যায়ে বরাতির স্বামী শমসের আলী স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে রড দিয়ে মাসুদাকে বেধড়ক পেটায়। একারণে মাসুদা তার স্বামীর সোবহানের কাছে বিচার চান। কিন্তু স্বামীর কাছ থেকে তেমন সাড়া না মেলায় তিনি ক্ষোভে ও অভিমানে স্বামীর বাড়ী ছেড়ে ননদের বাড়ীতে গিয়ে উঠেন। গত শনিবার তিনি ননদের বাড়ী ছেড়ে স্বামীর বাড়ীতে ফিরে আসেন। এরপর আবারো দেবরের বিচার চান। কিন্তু আব্দুস সোবহান ওই ঘটনার জন্য মাসুদাকেই দায়ী করেন। এনিয়ে আবারো দেবরের সাথে মাসুদার ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এবারেও তিনি দেবর কর্তৃক বেধড়ক পিটুনির শিকার হন এবং মারা যান।
রোববার দিনভর ওই মৃত্যুর ঘটনাকে বিষপানে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। সন্ধ্যায় খবর পেয়ে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
সোমবার থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ ও পরিদর্শক(তদন্ত) আরিফ আলী বলেন, ওই গৃহবধূর শান্তা খাতুন(৮) ও মাসুদ রানা(৪) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। শিশু মাসুদ রানা এলাকার অনেক মানুষের সামনে তার বাবার কোলে বসে মাকে হত্যার বর্ণনা দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী আব্দুস সোবহান ও শমসেরকে তাৎক্ষনিকভাবে আটক করা হয়। এরপর মামলা হলে ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।তিনি বলেন, ময়না তদন্তের জন্য লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর পাশাপাশি গ্রেফতারকৃতদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।




