অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

বছরে মাদকের পেছনে নষ্ট হচ্ছে ৬০০০০ কোটি টাকা

মাদকাসক্তদের চিহ্নিত করতে পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরুর বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থার সদস্যদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্ট- এই মুহূর্তে করণীয়’ শীর্ষক মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে তারা এই আহ্বান জানান। শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস এবং সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকু। স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আহসানুল জব্বার। সাংবাদিক নিখিল ভদ্রের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন পার্লামেন্ট নিউজ-এর সম্পাদক সাকিলা পারভীন ও একাত্তর টিভির বার্তা সম্পাদক পলাশ আহসান। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শামসুল হক টুকু বলেন, পুলিশের ডোপ টেস্ট শুরু হয়েছে।
গাড়িচালকদের ডোপ টেস্ট শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট শুরুর কার্যক্রম চলছে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনতে হবে। এতে মাদকের চাহিদা কমবে। ফলে দেশে মাদকের প্রবেশও কমবে। তিনি আরো বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় আমি ছাত্রলীগ ও যুব লীগের কমিটিতে মাদকাসক্তদের রাখতে দেয়নি। এটা সারা দেশে করতে হবে। পুলিশ সদস্যরাও মনে করেন, শুধু তাদের কেন সকল সংস্থার সদস্যদের ডোপ টেস্ট করানো হোক। সর্বোপরি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মাদকের ব?্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও বলবো, মাদক নির্মূলে আমরা বসে নেই। আমরা চেষ্টা করছি, কীভাবে মাদকের থাবা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করা যায়। তিনি আরো বলেন, দেশে মাদকের চাহিদা কমলে যোগানও কমে যাবে। তাই সন্তানরা যাতে মাদকাসক্ত না হয়ে পড়ে সেজন?্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার। সকলে সচেতন হলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব হবে। সভাপতির বক্তব্যে স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা বলেন, মাদক পাচার, বেচাকেনার ক্ষেত্রে নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। বাবা-মা খবর রাখছেন না, ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে, কি করছে? ব্যস্ততার কারণে বাবা-মা ছেলেমেয়েদের সময় দিচ্ছেন না। এতে করে তারা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। তিনি আরো বলেন, ব?্যবসার কৌশল বদলে মাদক কারবারিরা এখন নারী ও শিশুকে ব?্যবহার করছে। যা খুবই দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়। তাই সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে মাদকের গডফাদারকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকলকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। প্রতিবছর মাদকের পেছনে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে শিশু ও নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ইয়াবা ছেলেদের মতো মেয়েরাও অবলীলায় গ্রহণ করছে। বিগত ১০ বছরে মাদকাসক্তের কারণে দুই শ’ মা-বাবা খুন হয়েছেন। আরো উল্লেখ করা হয়, মাদকের ভয়াবহতার চিত্রটা বেশ পরিষ্কার। গণমাধ্যমগুলোই বলছে, দু’একটি বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া, আজ দেশে যত অপরাধ হচ্ছে প্রতিটির গোড়া মাদকের ঘরে। এই যে গ্যাং নামের অপসংস্কৃতি-এই গ্যাং তৈরির পেছনেও রয়েছে মাদক। মাদকের কারণে উচ্ছন্নে যাচ্ছে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী। ভাঙছে সমাজ, সংসার ও পরিবার। মাদকের টাকা যোগাড় করতে মা কিংবা বাবার গলায় ছুরি ধরছে সন্তান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছুরি বসিয়ে দেয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে গণমাধ্যমগুলোতে। ভয়াবহ সব উদাহরণ প্রকাশ হচ্ছে প্রতিদিনের খবরে। দেশে মাদকাসক্তদের তিন ভাগের দুই ভাগই তরুণ। জরিপ তথ্য তুলে ধরে প্রবন্ধে বলা হয়, প্রতিদিন গড়ে তাদের ১৫০ টাকার মাদক লাগে। এই হিসাবে একজন মাদকাসক্ত বছরে ৫৪ হাজার ৭৫০ টাকা মাদকের জন্য ব্যয় করে। দেশে ২৫ লাখ মাদকাসক্ত ধরা হলে তারা বছরে ১৩ হাজার কোটি টাকার মাদক সেবন করে। এসব মাদকের পুরোটাই অবৈধভাবে দেশে আসছে। আর পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।
সুত্র : মানবজমিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button