বদরগঞ্জ সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এক প্রভাষকের সনদপত্র জালিয়াতির অভিযোগ

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদ আলী খানের বিরুদ্ধে বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামীম আল মামুনের সনদপত্র জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। একারণে ওই প্রভাষক রংপুরের সিনিয়র জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে- মাজেদ আলী খান অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাত ও জালিয়াতিতে লিপ্ত হওয়ায় শামীম আল মামুন প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে এক সভায় চার সদস্য বিশিষ্ট একটি অভ্যন্তরিণ অডিট কমিটি গঠণ করেন। ওই কমিটি কর্তৃক অডিটকালে অধ্যক্ষ মাজেদ আলী খান কর্তৃক ৪৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৯ টাকার জালিয়াতি ধরা পড়ে। একারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে শামীম আল মামুনকে শায়েস্তা করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এরই অংশ হিসেবে তিনি চলতি বছলের ১৬ ফেব্রæয়ারী প্রভাষক শামীম আল মামুনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ(সিরিয়াল নং-১০১৪২৭৭৪, রেজিঃ নং-২০১২৮৪৭৮৫৮, রোল নং- ৪০১২৬০৭৭, পরীক্ষার সাল-২০১২) যাচাই করার জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের(এনটিআরসিএ) কাছে প্রেরণ করেন। ২৭ ফেব্রæয়ারি এনটিআরসিএ ওই প্রভাষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ সঠিক বলে মতামত ব্যক্ত করে। এরপর তাকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ তার অনুসারীদের অনুপ্রেরণায় শিক্ষক নিবন্ধনের জাল সনদ(রোল নং-১১০৭০০৩৩, রেজিঃ নং-৭০০৩৪৯৭, পরীক্ষার সাল-২০০৭ইং) তৈরি করেন। এছাড়া সেটি সঠিক কিনা তা’ যাচাইয়ের জন্য ২৯ আগস্ট এনটিআরসিএ’র কাছে প্রেরণ করেন। এবার তিনি সফল হন। এনটিআরসিএ ওই সনদটিকে জাল হিসেবে উল্লেখ করে। অথচ ওই সনদধারীর নাম শফিকুল ইসলাম, তার পিতার নাম আনছার আলী সিকদার,মাতার নাম সুফিয়া বেগম এবং তিনি রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে- ২০০৭ সালে শামীম আল মামুনের এনটিআরসিএ’র পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের কোন যোগ্যতা ছিলনা। তিনি ২০১২ সালে এনটিআরসিএ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন এবং উত্তীর্ন
হন। ২০১৬ সালে বদরগঞ্জ কলেজ সরকারিকরণ হলে কলেজ পরিদর্শণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপ্তর(মাউশি) তিনজন কর্মকর্তাকে প্রেরণ করে। ওই কর্মকর্তারা শামীম আল মামুনের এনটিআরসিএ
পরীক্ষার সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য সার্টিফিকেট সঠিক বলে প্রতিবেদন প্রণয়ন ও দাখিল করেন। এরপরও অধ্যক্ষসহ আরো কয়েকজন তাকে শায়েস্তা করতে এনটিআরস্এি সনদ জালিয়াতির ঘটনা ঘটান।
এবিষয়ে জানতে চাইলে শামীম আল মামুন বলেন, বদরগঞ্জ কলেজ সরকারিকরণ হলেও অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারী সরকারিকরণ হননি। একারণে অধ্যক্ষ ঈর্ষাšি^ত হয়ে পড়েন। এছাড়া অর্থ
আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অধ্যক্ষ আমাকে শায়েস্তা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এদিকে অধ্যক্ষ মাজেদ আলী খান বলেছেন, আদালত আমাকে শামীম আল মামুনের বিরুদ্ধে কি কি ডকুমেন্ট রয়েছে সেগুলো প্রদর্শণ করতে বলেছে। আমি সেগুলো আদালতে জমা দিয়েছি। তিনি বলেন, আমি অর্থ আত্মসাতসহ সনদ জালিয়াতির ঘটনা পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট।




