Uncategorized

কুড়িগ্রামে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলাসহ আবারও সবকয়টি নদ-নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর আগে পানি নেমে যাওয়ার পর যেসব বানভাসী ঘরে ফিরেছেন, তারা আবার বন্যার শঙ্কা করছেন।
এসব মানুষজন বলছেন, গত বন্যায় ঘরের খাবার সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবার প্রস্তুতির মধ্যে আবার বন্যা হলে মহা দুর্ভোগ পোহাতে হবে তাদের।
এদিকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে কুড়িগ্রামে বিসর্জনের বাজনা বাজছে। চারটি প্রধান নদ-নদীর ভাঙ্গনে অস্থির হয়ে উঠেছে নদী পারের মানুষজন। নদী গিলে খাচ্ছে- বসতভিটা, মসজিদ, মন্দির, গুচ্ছগ্রাম আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
দুইদিন আগে চর রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন নাওশালা চরের আশ্রয় কেন্দ্রটি ব্রহ্মপুত্রে বিলিন হয়ে যায়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ওই আশ্রায়ণ কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছিল। এতে ২৫টি ব্যারাকে ৭৫টি গৃহহীন পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল।
ভেঙ্গে যাওয়া আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দা শাহাদত হোসেন করুণ কণ্ঠে জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের থাবায় হারিয়ে গেল ভূমিহীন ৭৫ পরিবারের শেষ আশ্রয়। দুই দিনের ব্যবধানে ব্রহ্মপুত্রের পেটে চলে গেল তাদের আশ্রয় কেন্দটি। প্রায় ৩শ’ মানুষ খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন ছাড়া আর কোনো উপায় থাকল না। তাদের মধ্যে কেউ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও অধিকাংশ মানুষের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
কুড়িগ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, ও দুধকুমার নদে আবার পানি বাড়তে শুরু করেছে। বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে সবকটি পয়েন্টে পানি বাড়তে শুরু করেছে। পুর্বাভাস অনুয়ায়ী, এই পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই পানি নামলে বন্যা দেখা দেবে।
জেলার রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহষ্পতিবার ভোর ৫টা থেকে জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। যা থেমে থেমে এখনো চলছে। বিকাল ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৪ মিলি লিটার। এই বৃষ্টিপাত আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত অব্যহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসণ কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা জানান, বন্যার শুরুতে ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও প্রায় ৩৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ২০০ মেট্রিক টন চাল, শিশু ও পশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা ও ২ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ এসেছে। যা এখনো বিতরণ করা হয় নাই। সুত্র : দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button