আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

আবার মসজিদে রূপান্তরিত হচ্ছে আয়া সুফিয়া!

আবার মসজিদে রূপান্তরিত হতে পারে আয়া সুফিয়া। ক্ষমতাসীন জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা স্থাপনাটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ১৯৩৪ সার থেকে এটি কার্যত জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের ক্ষমতায় আসেন কামাল আতাতুর্ক। তিনি খেলাফতের অবসান ঘটিয়ে সেক্যুলার ধারার প্রচলন করেন। খ্রিস্টান বিশ্বের সাথে দৃশ্যত সমঝোতার প্রয়াস হিসেবে ১৯৩৪ সালে এটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়। ওই সময় থেকে স্থাপনাটির মূল অংশটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আর হানকার কাসরি নামের ছোট একটি স্থান মুসলিমরা নামাজ পড়ে থাকে।
আয়া সুফিয়া ১৪৫৩ সাল থেকে তুর্কিদের অধীনে রয়েছে। সুলতান দ্বিতীয় মোহাম্মদ ওই বছর বায়জান্টাইনদের কাছ থেকে ইস্তাম্বুল জয় করেন। তিনি ওই সময়ের নিয়ম অনুসরণ করে এটিকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। তবে এই কাজ করার সময় তিনি এর ঐতিহাসিক কাঠামোর কোনো ক্ষতি করেননি।
খ্রিস্টান বিশ্বের কাছে এই স্থাপনাটির বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে বায়জান্টাইন উত্তরাধিকারের ধারক হিসেবে পরিচিত গ্রিকরা দাবি করে আসছে যে এই স্থাপনায় কোনো পরিবর্তন আনার অধিকার তুরস্কের নেই।
আয়া সুফিয়া হলো খ্রিস্টানদের নির্মিত বিশ্বের প্রাচীনতম ক্যাথেড্রালগুলোর একটি। ৫৩৭ সালে বায়জান্টাইন সম্রাট প্রথম জাস্টিয়ান এটি নির্মাণ করেন। এর বিশাল গম্বুজটি অনন্য। এটি খ্রিস্টানদের কাছে দুনিয়ার বুকে সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর অন্যতম।
এই স্থাপনাটি তুরস্কের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। প্রতি বছর এর সৌন্দর্য দেখতে বিপুলসংখ্যক লোক তুরস্কে যায়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিট ক্যাভুসোগলু বলেছেন, আয়া সুফিয়ার মর্যাদার বিষয়টি আন্তর্জাতিক নয়, এটি তুরস্কের জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়।
ক্যাভুসোগলু বৃহস্পতিবার তুরস্কের জাতীয় সংবাদ চ্যানেল এনটিভিতে একটি সরাসরি সম্প্রচারে বলেছেন, আয়া সোফিয়ার অবস্থান নিয়ে তুরস্ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এটি জাদুঘর হিসেবে থাকবে নাকি মসজিদে পুনর্নির্মাণ করা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রিসকে এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সমালোচনা করে বলেন, গ্রিক সরকার সংখ্যালঘু অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নীতি লঙ্ঘন করে কথা বলতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, ‘গ্রিস সংখ্যালঘুর অধিকার নিয়ে বিশ্বে কথা বলা ইউরোপে সর্বশেষ ও একমাত্র দেশ যেখানে দেশটির রাজধানীতে কোনো মসজিদ নেই। এমনকি শুক্রবারের নামাজ পড়ার জন্য পশ্চিমা থ্রেসে সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মীয়দের কর্তৃপক্ষ দণ্ডিত করে থাকে।
তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, এই অঞ্চলে তুরস্কের সংখ্যালঘুরা নিজেদের তুর্কি হিসাবে উল্লেখ করতে পারে না ও গ্রিক সরকার তাদের অধিকার লঙ্ঘনের জন্য তিনগুণ সাজা দেয়।
ক্যাভুসোগলু বলেছেন, তুরস্কের শীর্ষ প্রশাসনিক আদালত কাউন্সিল অফ স্টেট এই বিষয়ে ২ জুলাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্র : ডেইলি সাবাহ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button