শিরোনাম

সোনারগাঁওয়ে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বারদি ইউনিয়নের শান্তিরবাজার, চেঙ্গাকান্দী এলাকায় হাবিবুর রহমান হাবু ও তার ক্যাডার বাহিনীর চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়ায় উজ্জল ও শাকিল নামের দুই যুবককে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে ওই এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সোমবার সকালে ওই এলাকার পাঁচ গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে হাবিবুর রহমান হাবুর বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করে। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমানের লোকজন উত্তেজিত হয়ে গ্রামবাসীকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় হাবিবুর রহমান হাবুর লোকজন ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় কেউ আহত না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুল ইসলাম ও সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে হাবিবুর রহমান হাবুর বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় গ্রামবাসীর পক্ষে আহত যুবকদের চাচা ইসহাক মিয়া সোমবার বিকেলে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার বারদি ইউনিয়নের শান্তিরবাজার, চেঙ্গাকান্দী এলাকায় ডাকাত সর্দার হাবিবুর রহমান হাবু ও তার ক্যাডার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। করোনার প্রার্দুভাবের মধ্যেও গত ১৫ দিনে এ বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডাররা নিরীহ ছয় ব্যক্তিসহ কমপক্ষে ১০ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। গত ২৮ মে চাঁদার দাবিতে শান্তিরবাজারে নজরুল ইসলামের দোকান ভাঙচুর করে হাবিবুর রহমান হাবু ও তার লোকজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেঙ্গাকান্দি গ্রামের লোকজন হাবুকে একা পেয়ে মারধর করে। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে রোববার সন্ধ্যায় হাবুর নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র দা, রাম দা, টেঁটা ও লোহার রড নিয়ে শান্তিরবাজার মোড়ে চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়া যুবক শাকিল ও উজ্জলকে পেয়ে কুপিয়ে আহত করে। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে গ্রামবাসী হাবু ও তার লোকজনের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় হাবিবুর রহমান হাবুর নেতৃত্বে গ্রামবাসীর সাথে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৯ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ, ডাকাত সর্দার হাবু ও তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এমনি কী হামলা ও নির্যাতনের শিকার ভূক্তভোগী কেউ মামলা করতেও সাহস পায় না। হাবুর বিরুদ্ধে, ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরিসহ আটটি মামলা রয়েছে।
অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে একা পেয়ে গত মাসে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার লোকজন তাদের মারধর করেছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৯ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইদুল ইসলাম বলেন, গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বসে উভয়পক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button