জাতীয়শিরোনাম

সোমবার কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী

কবিতায় দ্রোহের আগুন জ্বেলেছিলেন, ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন শাসক-শোষকের। আবার প্রেমের মায়াজালে অমর সব শব্দকে গেঁথেছেন পরম মমতায়। তিনি ঝাঁকড়া চুলের কাজী নজরুল। স্বাধীন বাংলাদেশে তাকে জাতীয় কবির সম্মান দেওয়া হয়েছে।
কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মবার্ষিকী সোমবার। বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মেছিলেন তিনি। ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।
জাতীয় পর্যায়ে কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রতিবছর ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও এ বছর করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারনে জন সমাগম করে কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে ডিজিটাল মাধ্যমে নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন নজরুলের সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এ সময় উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মাণ করেছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘জাগো অমৃত পিয়াসী’। সোমবার সকাল ১১টা হতে বিটিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে একযোগে সম্প্রচার করা হবে অনুষ্ঠানটি। সোমবার পবিত্র ঈদ উল ফিতরের এ আনন্দময় দিনে সবাইকে ঘরে বসে এ অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন করবে।
বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও নজরুল একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।
তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তার লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনার এক বছর পর ১২ই ভাদ্র ১৯৭৬ সালের শোকের মাসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নজরুল। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button