sliderবিনোদনশিরোনাম

অবন্তি গ্যালারিতে মুনিরা বেগম লিপির ‘নস্টালজিয়া’

ঢাকা : উত্তর বাড্ডায় ৫০ জন বাছাইকৃত নারী চিত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু ‘Women in Art 2026’; স্মৃতি, সময় ও হারানো অনুভূতির বিমূর্ত ভাষায় আলোচনায় ‘নস্টালজিয়া’

ঢাকা, উত্তর বাড্ডা: উত্তর বাড্ডার অবন্তি গ্যালারি (Abinta Gallery of Fine Arts)-এ ৯ মে ২০২৬ তারিখে শুরু হয়েছে ‘Women in Art 2026’ শীর্ষক দলীয় চিত্রপ্রদর্শনী। দেশের ৫০ জন বাছাইকৃত মহিলা গুণী ও প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ চিত্রশিল্পী মুনিরা বেগম লিপির বিমূর্ত চিত্রকর্ম ‘নস্টালজিয়া’। স্মৃতি, সময়, অন্তর্জগতের নীরবতা ও হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির সুর এই কাজের কেন্দ্রবিন্দু। গাঢ় ধূসর, কালো, মাটিরঙা বাদামি, সবুজ, সাদা ও লালচে রঙের স্তরবিন্যাসে শিল্পী স্মৃতির ভাঙাচোরা অথচ জীবন্ত আবহ নির্মাণ করেছেন।

‘নস্টালজিয়া’ সরাসরি কোনো দৃশ্য পুনর্নির্মাণ করে না; বরং এটি স্মৃতির ভেতর দিয়ে ফিরে দেখা এক মানসিক ভ্রমণ। রেখা, টেক্সচার, ভাঙা গঠন ও স্তরযুক্ত রঙের ব্যবহারে কাজটি দর্শককে নিজের অভিজ্ঞতা, হারিয়ে যাওয়া সময় এবং গভীর আবেগের দিকে ফিরে তাকাতে আহ্বান জানায়।শৈশব ও হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতি নিয়ে আঁকা এই ছবি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

শিল্প সমালোচকদের অভিমত
শিল্প সমালোচকদের মতে, মুনিরা বেগম লিপির‘নস্টালজিয়া’ কেবল একটি বিমূর্ত চিত্রকর্ম নয়; এটি স্মৃতি ও সময়ের স্তরভিত্তিক পাঠ। ছবির ভাঙা জ্যামিতিক গঠন, ঘন-পাতলা রঙের বিন্যাস এবং ক্ষয়ে যাওয়া পৃষ্ঠতল দর্শককে এমন এক মানসিক পরিসরে নিয়ে যায়, যেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি ধীরে ধীরে সামষ্টিক অভিজ্ঞতায় রূপ নেয়।

তাঁদের মূল্যায়নে, কাজটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর নীরবতা। এখানে কোনো সরাসরি বর্ণনা নেই, তবু রঙ, রেখা ও টেক্সচারের মধ্য দিয়ে হারানো ঘর, পুরোনো সময়, অপেক্ষা এবং ফিরে না-পাওয়া দিনের আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কালো ও ধূসর রঙের ভারের পাশে সবুজ ও সাদার উপস্থিতি স্মৃতির অন্ধকারের ভেতরেও আশ্রয় ও আলোর ইঙ্গিত দেয়।

‘নস্টালজিয়া’ শুধুমাত্র একটি বিমূর্ত শিল্পকর্ম নয়; এটি মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সামষ্টিক অনুভূতির এক নান্দনিক দলিল। শিল্পী অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে রঙ, রেখা ও টেক্সচারের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া সময়কে দর্শকের অনুভূতিতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তারা আরও বলেন ‘নস্টালজিয়া’ দর্শককে প্রস্তুত উত্তর দেয় না; বরং নিজস্ব স্মৃতি দিয়ে ছবিটি সম্পূর্ণ করার সুযোগ দেয়। এই কারণেই কাজটি শুধু চোখে দেখার নয়, অনুভবের শিল্প। আধুনিক বিমূর্ত ভাষার ভেতর দিয়ে শিল্পী যে আবেগময় মানবিকতা তুলে ধরেছেন, তা প্রদর্শনীর সামগ্রিক শিল্পমানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

চিত্রশিল্পী মুনিরা বেগম লিপি বলেন, “আমি চাই আমার ক্যানভাস যেন কথা বলে। মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শৈশব, স্মৃতি ও নীরব আবেগকে আমি রঙের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “‘নস্টালজিয়া’ আমার কাছে ফিরে না-পাওয়া সময়ের প্রতিচ্ছবি। এই কাজের মাধ্যমে আমি স্মৃতির গভীর মানবিক অনুভূতিকে ধারণ করার চেষ্টা করেছি।”
ব্যাপক আলোচিত চিত্রকর্ম “নস্টালজিয়া” দেখার জন্য “অবিন্তা” গ্যালারিতে চিত্র শিল্প প্রেমিদের উপচে পড়া ভীড় লেগেছে।

উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতির পাশাপাশি Abinta Gallery of Fine Arts-এর চেয়ারপারসন মিসেস নিলু রওশন মুর্শেদ উপস্থিত ছিলেন। প্রখ্যাত শিল্পী ফরিদা জামান ও কনক চাঁপা চাকমার অংশগ্রহণ প্রদর্শনীকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।

নারী শিল্পীদের সৃজনশীলতা, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে আসা এ আয়োজন শিল্পপ্রেমী দর্শক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিমনা মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button