Uncategorized

ফোন করলেই রোগীর বাড়িতে গাড়ি হাজির

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক জয়নুল আবেদীন কিডনি রোগে ভুগছেন দীর্ঘদিন। তার একটি কিডনি অকেজো হয়ে পড়ায় সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়ে যায় তার পরিবার।
এ অবস্থায় তার এক ছাত্রের মাধ্যমে জানতে পারেন এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি বিনাভাড়ায় রোগী পরিবহন করছেন।
তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে মুঠোফোন সংগ্রহ করে ফোন করার কিছুক্ষণ পর নিজের প্রাইভেটকার নিয়ে হাজির হন ইকবাল হায়দার চৌধুরী।
তার বাড়ি উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে। তিনি এ পর্যন্ত ৫০ জন রোগীকে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে আনা-নেওয়া করেছেন। পাশাপাশি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে কেউ অভাব-অনটনের কথা জানালে তাদের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার।
করোনার এই পরিস্থিতিতে ইকবাল হায়দার চৌধুরীর মতো আনোয়ারা উপজেলার আরও অন্তত ১০ ব্যক্তি মানবসেবায় এগিয়ে এসেছেন।
তারা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এম এ রশিদ, ব্যবসায়ী লায়ন চৌধুরী আনোয়ারুল আজিম, মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ এনামুল হক, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইদ্রিচ, ব্যবসায়ী হারুন রাজু, পুলিশের এসআই মনিরুল ইসলাম, চাকরিজীবী রুহুল কুদ্দুস, শিক্ষার্থী নরোত্তম কান্তি ধর, সেলিম উদ্দিন ও সাজ্জাদ হোসেন।
এদের মধ্যে চৌধুরী আনোয়ারুল আজিম নিজের বাইক নিয়ে গত ২৯ মার্চ থেকে রোগী ও রক্তদাতা আনা-নেওয়া শুরু করেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও এ কাজে এগিয়ে আসেন। আর ১ এপ্রিল থেকে নিজেদের প্রাইভেটকারে রোগী পরিবহন সেবা দিচ্ছেন ইকবাল হায়দার চৌধুরী ও এম এ রশিদ।
তাদের এ উদ্যোগ সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন অবগত। তাই করোনার মধ্যে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও তাদের চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসব স্বেচ্ছাসেবকের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া আছে। রোগীর স্বজনদের যে কেউ ফোন করলেই তারা গাড়ি নিয়ে রোগীর বাড়ি যাচ্ছেন
মানুষের কষ্ট লাঘবে স্বপ্রণোদিত হয়ে তারা এ কাজ করছেন। কাজের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা নেন না। তাদের অনেকেই আবার দরিদ্র রোগীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও করছেন। তাদের এ সেবা পেয়ে খুশি রোগীরাও।
উপজেলার বন্দর গ্রামের আবু হানিফ জানান, তার মায়ের শ্বাসকষ্ট ও হার্টের সমস্যা ছিল। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবহন সংকটের কারণে বিপাকে পড়ে যান। এ অবস্থায় রশিদ ভাইয়ের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি নিয়ে এসে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এজন্য তিনি কোনো টাকা নেননি।
নিজের প্রাইভেটকারে রোগী আনা-নেওয়া করা ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, এ পর্যন্ত ৫০ জন রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি। দিনে অন্তত একজন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারলে আমার শান্তি লাগে। দেশ রূপান্তর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button