
নিজের জন্মদিনে প্রথমবার বাবা হয়েও মেয়েকে দেখা হচ্ছে না। কাজের ব্যস্ততায় আর সন্তানের নিরাপত্তার চিন্তায় থাকতে হচ্ছে দূরে। ভারতের হাওড়ার পঞ্চায়েত সদস্য নুরজ মোল্লা এই সময় দিনভর জীবাণুনাশের কাজে ব্যস্ত।
বাঁকড়ার জাপানি গেট এলাকায় একের পর এক বাড়িতে যখন স্যানিটাইজেশনের কাজ করতে হচ্ছে নুরজকে, তখন এক কিলোমিটার দূরের নার্সিংহোমে প্রসবযন্ত্রণা উঠেছিল স্ত্রী ঝুমকি মিদ্দের। কিছুক্ষণের মধ্যে একটি ফুটফুটে শিশুকন্যার জন্ম দেন ঝুমকি।
সেটা ছিল ৮ এপ্রিল। নুরজের জন্মদিন। আর সে দিনই মেয়ে হয়েছে তার। আপ্লুত নুরজ। কিন্তু তিনি যে কভিড-১৯ মোকাবিলার কাজ করছেন। তাই জন্মের পর দু’দিন ধরে মেয়ের কাছে যাওয়ার জন্য মন ছটফট করলেও যেতে পারেননি।
নুরজ জানান, এত দুঃখ-বিষাদের মধ্যেও তার বাড়িতে একটা আনন্দের খবর এসেছে। কিন্তু বাড়ির লোক এমনকি তিনি নিজেও ঠিক করে সেই আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন না। নার্সিংহোমে মা ও শিশু দু’জনই অবশ্য সুস্থ আছে।
ভারতে সরকারি ছুটির দিন রবিবারও বাঁকড়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় স্যানিটাইজেশনের কাজ চলবে নুরজের নেতৃত্বে। তাই তার অপেক্ষা আরও বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘কাজের ফাঁকে হয়তো সময় করে এক বার নার্সিংহোমে গিয়ে মেয়ের মুখটা ভালো করে দেখে আসতে পারতাম। কিন্তু আমি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। তাই এতটুকু একটা শিশুর কাছে যাওয়াটা ঠিক হবে না। সদ্য বাবা হয়েও মেয়ের ছবি দেখে দিন কাটাতে হচ্ছে আমাকে।’




