বিবিধশিরোনাম

এক করোনাযোদ্ধার গল্প

২৬ বছর বয়সী এমবান্দা এখন অ্যাম্বুলেন্স চালক। দিনরাত করোনা আক্রান্তদের নিয়ে ছুটে চলেন পারমার এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। ক্লান্তিও তাকে থামাতে দেয় না।
যখন দিনের কাজ শেষ করে সারাদিন হাসপাতালে দেখা নানান দৃশ্যের কথা মনে পড়ে, তখন আর বিশ্রাম নিতে মন সায় দেয় না। মনে হয়, লড়াইটা তো এখনও চলছে, এখনও বাঁচার আকুতিতে মানুষ অপেক্ষায় আছে।
পৃথিবীটা দুই মাস আগে যেমনভাবে চলছিল, তেমনভাবে চললে এমবান্দাকে এখন ইতালির হয়ে সিক্স ন্যাশন্স ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হতো। কিন্তু তাবৎ দুনিয়ার মতো দৃশ্যপট পাল্টে গেছে পারমার ক্লাব জেবরেতে খেলা এমবান্দার জীবনও। ‘বাসায় বসে ছিলাম। খেলা নেই, অনুশীলন নেই। সবকিছুই বন্ধ।
তখন ভাবলাম কী করতে পারি আমি এই সময়ে? ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখলাম পারমা কমিউনিটি এবং ইয়েলো ক্রস চ্যারিটি করোনা আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করছে। কাজ হচ্ছে রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেওয়া, যেখানে বেড খালি আছে।’
এমবান্দা চিকিৎসক নন, নার্সিংও জানেন না। কিছু একটা করতে হবে ভাবনা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভিংয়ের দায়িত্ব নিলেন। সারাদিন এই হাসপাতাল ওই হাসপাতাল ছোটাছুটি করেন। দেখা গেল এক জায়গায় রোগী বেড়ে গেছে বিধায় কিছু আক্রান্তকে নিয়ে আরেক হাসপাতালে গেছেন, কিন্তু সেখানেও জায়গা ফাঁকা নেই। তখন আরেক জায়গায় ছোটেন। মাঝেমধ্যে রোগী নিয়ে গিয়ে দেখেন এরই মধ্যে বেডের জন্য এক-দেড়শ’ মানুষের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
এনবিসির সঙ্গে আলাপে এমবান্দা বলছিলেন, ‘স্কুলে আমি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কথা পড়েছি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা পড়েছি। ইরাক যুদ্ধ, সিরিয়া, আফ্রিকার যুদ্ধের কথাও জানি। কিন্তু এখন যা ঘটছে তা যেন ভিন্ন কোনো পৃথিবী। একটা অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই, কেমন যেন অবাস্তব অবাস্তব লাগে।’
সারাক্ষণ করোনা আক্রান্ত রোগী থাকায় এমবান্দার নিজের সুস্থতাও ঝুঁকির মুখে থাকে। পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট পরা থাকলেও হাসপাতালে যাওয়ার পর মনে হতে থাকে ‘বাতাসে শত্রু ঘুরছে’। কিন্তু এরপরও কাজ থেকে পিছু হটেন না এই ইতালিয়ান। বিশেষ করে করোনা আক্রান্তদের বাঁচার আকুতি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, ‘রোগীদের অবস্থা ভয়ানক। তাদের চোখেমুখে ভীষণ ভয়। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে অনেকের দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠি। মুখে মাস্ক থাকার কারণে অনেকে কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদের চোখ কথা বলে। ওই চোখ দিয়েই বলে তারা কতটা ভয় পাচ্ছে।’
প্রতিদিন এমন ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটালেও থেমে যেতে রাজি নন এমবান্দা, ‘শিফট (পালা) শেষ হওয়ার পর খুব ক্লান্ত থাকি। কিন্তু সারাদিনের ছবি যখন মনে পড়ে তখন আর নিজেকে ক্লান্ত ভাবতে পারি না।’
সামনের সপ্তাহে ২৭ পূর্ণ করতে যাওয়া এমবান্দা অন্য তরুণদেরও করোনা দুর্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, ‘যেসব তরুণ একা থাকেন, ঘরে বিরক্ত হয়ে আছেন, কিংবা সামাজিক মাধ্যমে দোষারোপ করা ছাড়া আর কিছু করছেন না, তাদের বলব ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখুন কী করা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক স্বেচ্ছাসেবক দরকার, অনেকের সেবা দরকার।’
সুত্র : পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button